বিশ্বের অন্যান্য প্রধান মহানগরীর মতোই দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুদূষণের তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সর্বশেষ প্রকাশিত বায়ুমান সূচকের তথ্যানুসারে, এই শহরের বাতাসের মান বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ৯ম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের মেগাসিটি ঢাকা। ওই সময়ে শহরটির বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৪২। এই মাত্রার বাতাস বিশেষ করে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর—যেমন শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং যাদের শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্‌রোগ রয়েছে—তাদের জন্য অস্বাস্থ্যকর। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে এই বায়ুমান স্কোরের পরিবর্তন বা ওঠানামা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

আইকিউএয়ারের ওই তালিকায় ২২৮ স্কোর নিয়ে শীর্ষস্থানে ছিল সৌদি আরবের রিয়াদ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর (১৭২), তৃতীয় ইরাকের বাগদাদ (১৭১), চতুর্থ ভারতের মুম্বাই (১৬১) এবং পঞ্চম ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৫৯)।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ১১টি দেশের শহরের বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে কাজাখস্তানের আলমাতি, পাকিস্তানের করাচি, উজবেকিস্তানের তাসকান্ত, কঙ্গোর কিনসাসা, চীনের গুয়াংজু ও হাংজু, ভিয়েতনামের হেনোয় ও হো চি মিন সিটি, নেদারল্যান্ডসের রোটারদাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েতের কুয়েত সিটি।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শহরের বাতাস কতটা নির্মল কিংবা দূষিত, সেই তথ্য প্রদান করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত বায়ুমান সূচক বা একিউআই-এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করে থাকে।

আইকিউএয়ারের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ভালো হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা মাঝারি বা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। সূচক ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে সাধারণ অর্থে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত হলে তা খুব অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ৩০০-এর বেশি হলে বাতাসের মানকে বিপজ্জনক বা দুর্যোগপূর্ণ পর্যায়ে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্তরা। এই ধরনের পরিস্থিতিতে দূষিত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বাইরে গেলে উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যানসার ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।