দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে রাজধানী ঢাকা। সাম্প্রতিক বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, শহরটির বাতাসের মান এখন 'অস্বাস্থ্যকর'।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) ডেটা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ঢাকার বায়ুমান স্কোর ছিল ১৭৪। এই স্কোরের ভিত্তিতে বাতাসকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, যার স্কোর ১৭৭। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (১৭৬ স্কোর)। এরপর ভারতের দিল্লি (১৬৭ স্কোর) চতুর্থ এবং কলকাতা (১৬১ স্কোর) পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার নিয়মিত এই তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিমুহূর্তের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) সূচকের মাধ্যমে মানুষকে জানানো হয় একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটুকু নির্মল বা দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি, সেখানকার বাতাস থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না, তাও এই সূচকে উল্লেখ থাকে।
একিউআই স্কোরের মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোর ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর সহনীয় বা মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোরকে সাধারণভাবে অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে গণ্য হয়।
বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং এটি সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণের প্রভাব আরও বেশি ক্ষতিকর।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।