বিশ্বের অন্যান্য অনেক মহানগরীর মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুদূষণের তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। সর্বশেষ বায়ুর মান সূচকের তথ্যানুসারে, বর্তমানে এই শহরের বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে ঢাকার বাতাসের মান সূচকের স্কোর ছিল ১৫৮। এই নির্দিষ্ট স্কোরের ভিত্তিতে শহরের বাতাসের মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল সপ্তম।
একই সময়ের তথ্যানুসারে, দূষিত শহরের তালিকায় ১৯৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা। এছাড়া ১৮৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হ্যানয় এবং ১৭৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিং। চতুর্থ অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের রাজধানী সিঙ্গাপুরের স্কোর ছিল ১৭২ এবং ১৬৭ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা।
প্রতিমুহূর্তের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করে আইকিউএয়ার এই তালিকা প্রকাশ করে থাকে। তাদের তৈরি একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটুকু নির্মল কিংবা দূষিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত তথ্য প্রদান করে আসছে। এর পাশাপাশি এই দূষণের ফলে জনস্বাস্থ্যে কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না, সে বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে থাকে।
একিউআই সূচকের মান অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোরকে 'ভালো' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরকে 'সহনীয় বা মাঝারি' হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে, ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য 'অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোরকে সাধারণ অর্থে 'অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে ধরা হয়। একইভাবে একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা 'খুবই অস্বাস্থ্যকর' বলে বিবেচনা করা হয়। আর যদি এই স্কোরের মান ৩০১-এর বেশি হয়, তবে তাকে 'দুর্যোগপূর্ণ' হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে, যা সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য এই বায়ুদূষণ অত্যন্ত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণের ক্ষেত্রে দূষণের পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করা হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো হলো— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন (ও৩)।
উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের যৌথভাবে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।