রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ করেই বায়ুদূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ সোমবার বিশ্বের প্রধান নগরীগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। তবে মূল শহরের তুলনায় এর আশপাশের এলাকাগুলোতে দূষণের তীব্রতা আরও বেশি বলে দেখা গেছে।

সাধারণত প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দেশের বায়ুর মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয় এবং শরতের শুরুতেও সেই ইতিবাচক প্রভাব বজায় থাকে। তবে এবারের শরৎকালে বায়ুদূষণের মান যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা সচরাচর দেখা যায় না।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল আটটার দিকে ঢাকার বায়ুর মান ছিল ১৮৫। বায়ুর এই মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। উল্লেখ্য যে, সূচকে ঢাকার আগে অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি, যার বায়ুর মান ছিল ৩০৮।

বায়ুদূষণের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে তুলে ধরে আইকিউএয়ার। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচকটি একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল কিংবা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে সঠিক তথ্য প্রদান করে এবং সতর্ক করে থাকে।

আজ রাজধানীর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বায়ুর মান অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আইকিউএয়ারের সূচকে দেখা গেছে, সাভারে বায়ুর মান ২৩৮, টঙ্গীতে ২১৬ এবং গাজীপুরে ১৯১।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের ধুলাবালু এবং শহরের আশপাশে গড়ে ওঠা শত শত ইটভাটার নির্গত ধোঁয়া। পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করলেও দূষণের এই উৎসগুলো পুরোপুরি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে দূষণের মাত্রা কমেনি।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ বছরের শীত মৌসুমে বায়ুদূষণের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।