ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরগুনার আমতলী অংশে দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা। মাত্র ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নির্দিষ্ট সড়কটিতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যাতে ১০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই মহাসড়কের একের পর এক বিপজ্জনক বাঁক, যত্রতত্র গড়ে ওঠা বাজার এবং অপরিকল্পিত যানবাহন পার্কিং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। যানবাহনের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও সে অনুপাতে সড়কের প্রশস্ততা না বাড়ায় সাধারণ যাত্রী ও চালকদের জন্য চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মহাসড়কে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন চালক এবং সাধারণ নাগরিকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের আমতলী অংশের বিভিন্ন স্থানে থ্রি-হুইলারগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে চলাচল করছে। রাস্তার পাশে যত্রতত্র পার্কিং এবং বাজারকেন্দ্রিক যানবাহনের জটলা সেখানে নিত্যদিনের দৃশ্য। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের পাশাপাশি এই মহাসড়ক দিয়েই চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের থ্রি-হুইলার, যা প্রায়ই মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান সালেহ এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও বাজারকেন্দ্রিক জটলার কারণে নিরাপদে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে থ্রি-হুইলারের বেপরোয়া চলাচল এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
সাকুরা পরিবহনের চালক মোহাম্মদ জাহিদ জানান, মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের পাশাপাশি নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারগুলো অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। তিনি আরও বলেন, “তাছাড়া বাঁক ও বাজার এলাকায় সড়কের পাশে থামিয়ে রাখা ছোট যানবাহনগুলো ঠিকমতো দেখা যায় না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, ঢাকা-কুয়াকাটার লাবিবা বাসের চালক মোহাম্মদ জসিম বলেন, “বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অসংখ্য বাঁক রয়েছে, যার মধ্যে আমতলী অংশটি বেশি বিপজ্জনক।”
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল মনে করেন, কেবল দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতির স্থায়ী কোনো উন্নতি হবে না। তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং বন্ধ, বাজার এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে।”
এই বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বলেন, “বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে আমাদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে জনবল সংকট সত্ত্বেও পুলিশ সাধ্যমতো দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছে। মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলারের চলাচল বন্ধ করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।”