মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালের পাশে একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার করা একটি শটগান প্রায় দুই বছর আগে নিখোঁজ হওয়া আনসার বাহিনীর অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটির নম্বরের সঙ্গে আনসার সদস্য জুয়েল শেখের নামে ইস্যু করা নিখোঁজ শটগানের নম্বরের প্রায় সম্পূর্ণ মিল খুঁজে পেয়েছে পুলিশ ও আনসার কর্তৃপক্ষ। তবে অস্ত্রটির পরিচয় এখনো শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

গত সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালের পূর্ব পাশে সীমানাপ্রাচীরের বাইরের একটি ড্রেন থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে ড্রেনে পড়ে থাকার কারণে অস্ত্রটির ব্যারেল ও ট্রিগারে মরিচা ধরেছে। পাশাপাশি এর বিভিন্ন অংশে ক্ষয় লক্ষ্য করা গেছে। উদ্ধার হওয়া শর্টগানটির গায়ে লেখা রয়েছে ‘K G4394094, BAV 2019 MTC, MADE IN BRAZIL’। তবে ‘K’ ও ‘G’ অক্ষরের মাঝখানে থাকা একটি সংখ্যা অস্পষ্ট হওয়ায় অস্ত্রটির সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আনসার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের সময় পাটুরিয়া ফেরিঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বুকিং কাউন্টারে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সময়ে লুৎফর রহমান ও জুয়েল শেখের নামে ইস্যু করা দুটি শটগান হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে লুৎফর রহমানের অস্ত্রটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও জুয়েল শেখের অস্ত্রটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ অস্ত্রটির বিষয়ে শিবালয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের প্রশিক্ষক সোহেল রানা। জিডিতে নিখোঁজ শটগানটির নম্বর উল্লেখ করা হয় KTG4394094। সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির নম্বরের সঙ্গে মাঝের একটি সংখ্যা ছাড়া বাকি সব অংশের মিল পাওয়া গেছে।

শিবালয় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বলেন, “উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি আনসার বাহিনীর বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নম্বরের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রটির নম্বরের মিল রয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির নম্বরের সঙ্গে তাদের নিখোঁজ শটগানের নম্বরের মিল থাকার কথা জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”