মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় সেলফি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালকসহ দুই যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় আরও অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা বাসটি ভাঙচুর করে। এসময় সেলফি পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই অবরোধের ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে একই দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে বরঙ্গাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “দুর্ঘটনায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বাসচালক ও সহকারী পালিয়ে যান।”

নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে ইয়াছিন আরাফাত (২২) এবং একই গ্রামের মোজাহার মিয়ার ছেলে ইজিবাইকচালক বাবুল মিয়া (৩০)। এই দুর্ঘটনায় ইয়াছিনের বাবা শাহীন মিয়া (৪৫) ও মা রোজিনা বেগম (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে পাটুরিয়া থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল সেলফি পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি। একই সময়ে ঘিওরের মৌহালী থেকে যাত্রী নিয়ে বরঙ্গাইল হাটের দিকে যাচ্ছিল ইজিবাইকটি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কে ওঠার পরপরই ইজিবাইকটিকে পেছন থেকে চাপা দেয় বাসটি। এতে ইয়াছিন আরাফাত ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইজিবাইকচালক বাবুল মিয়া মৃত্যুবরণ করেন। খবর পেয়ে ঘিওর ফায়ার সার্ভিস এবং বরঙ্গাইল হাইওয়ে ও শিবালয় থানা–পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ লোকজন বাসটিতে ভাঙচুর চালায় এবং সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। এর ফলে মহাসড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে আগেও বিভিন্ন সময় কর্মসূচি করেছেন স্থানীয় লোকজন। আজ বাসচাপায় দুজন মারা গেলে আবার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।” তিনি আরও জানান, “এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সেলফি পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়েছিল। শিবালয়ের বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘নাগরিক সমাজ’–এর ব্যানারে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন। ওই কর্মসূচি থেকে সেলফি পরিবহন নিয়ে যাত্রীদের তীব্র অসন্তোষের কথা উল্লেখ করা হয়। বাস চালকদের বেপরোয়া ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি এবং বিপজ্জনক ওভারটেকের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট একই দাবিতে ঘিওর উপজেলার পুখুরিয়া এলাকায় ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর ৩১ আগস্ট তাঁরা একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।