মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাসটির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে শিবালয় উপজেলার বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে সেলফি পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের দুই যাত্রী প্রাণ হারান। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে ফেলেন।

অবরোধের পরিস্থিতি সামাল দিতে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ভিডিও কলের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কথা দেন যে, অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হবে। জেলা প্রশাসকের এই নিশ্চয়তা পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেন। সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি পীযূষ ফাইটার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, সকালে বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেলফি পরিবহনের ওই বাসটি এবং একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। এতে ইজিবাইকের দুই যাত্রী ইয়াসিন (২২) ও বাবলু (২৮) ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। নিহত উভয়েই ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় ইজিবাইকচালক গুরুতর আহত হন, যাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলফি পরিবহনের বাসটি পাটুরিয়া থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে, ইজিবাইকটি মৌহালী থেকে যাত্রী নিয়ে বরংগাইল হাটের দিকে যাওয়ার সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা মহাসড়ক অবরোধ করে সেলফি পরিবহনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর তারা তাদের দাবি প্রত্যাহার করে নেন।

বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।