মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সোমবার দুপুরে সেলফি পরিবহনের বাসের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নাগরিক সমাজ’–এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বেলা ১১টার দিকে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে বরঙ্গাইল এলাকায় স্থানীয়রা সমবেত হয়ে মানববন্ধন করেন। এতে খোন্দকার তুহিন হোসেন, গোলাম রব্বানী, বাবুল হোসেন, মো. পীযূষ ফাইটার, চঞ্চল হোসেন, রাকিব হোসেন, সাকিব হোসেন, রমজান মিয়া, মির্জা আব্বাস, মামুন মিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা সেলফি পরিবহনের বাস চলাচলের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন এবং রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানান। তাঁদের দাবি, বেপরোয়া ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস চালানো, অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিংয়ের কারণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ মাদক সেবন করে গাড়ি চালানোর খবরও রয়েছে, যা প্রায়ই হতাহতের ঘটনার কারণ হয়।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডে এলাকা প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচি চলাকালে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামসহ বরঙ্গাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সেলফি পরিবহনের পাটুরিয়া ঘাট শাখার তত্ত্বাবধায়ক সুলতান মাহমুদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "তাঁদের পরিবহনের বাসের রুট পারমিট এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। কারও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ছাড়া বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালাতে চালকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"
এর আগে ২৯ আগস্ট একই দাবিতে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুখুরিয়া এলাকায় ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করেন আন্দোলনকারীরা। ৩১ আগস্ট একই দাবিতে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা স্বাভাবিক ঘটনা নয়, প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, পরিবারের স্বপ্ন ও রাষ্ট্রের সম্পদ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহনে সংঘটিত বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও জনমনে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে আবারও সবাইকে নিয়ে সভা আহ্বান করে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে পরিবহনটির কী কী অনিয়ম–অসংগতি রয়েছে, তা সমাধানে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এ বিষয়ে সম্প্রতি অংশীজনদের নিয়ে সভা করেছেন তিনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আবারও সবাইকে নিয়ে সভা আহ্বান করে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে পরিবহনটির কী কী অনিয়ম–অসংগতি রয়েছে, তা সমাধানে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৩ জুলাই ঘিওরের তরা এলাকায় সেলফি পরিবহনের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিবহনটির দুটি বাস ভাঙচুর ও একটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তখন সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কয়েক দিন পর আবার তা চালু করা হয়।