আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষ্যে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন এবং দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মাউশির এই নির্দেশনাটি সারাদেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক এবং অধ্যক্ষদের পাঠানো হয়েছে। একই সাথে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালকদেরও এই আদেশ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের এই পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী ডিসেম্বর মাসেই পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে।
এই বিশেষ পরীক্ষার বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘২-৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া জানিয়ে বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।’
উল্লেখ্য যে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এসএসসি বা এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে এক বছরের ব্যবধান তৈরি হয় এবং তারা বাড়তি মানসিক চাপের সম্মুখীন হন।
শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা দূর করতে সরকার এবার নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যারা এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করেছেন, তারা এখন এক মাসের মধ্যেই কেবল সেই অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। জানা গেছে, এবার এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন।