কুমিল্লা জেলায় শিল্পকারখানার শ্রমিকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উসকানিদাতা, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক বিশাল সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ।

গত সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার মোট ১৮টি থানায় একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশের এই ব্যাপক তৎপরতায় মোট ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম)-এর বিশেষ নির্দেশনায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এবং গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে এই অভিযানটি সম্পন্ন করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিল্পকারখানার শ্রমিকদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মাসুদ রানা (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে তিনি শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছিলেন।

জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় কিশোর অপরাধ ও বখাটেদের উৎপাত বেশি, সেখানে বিশেষ নজর দিয়ে অভিযান চালানো হয় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। এই সামগ্রিক অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, ছিনতাইকারী, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “উঠতি বয়সি কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে তাদের পড়ালেখায় ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি নিরাপদ নগরী ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অভিযানের নামে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশের কঠোর নজরদারি রয়েছে।