কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ একযোগে পরিচালিত অভিযানে ৫১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে এই ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
আজ দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান মুক্তকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং কিশোর বয়সী ছেলেদের উৎপাত বেশি এমন নির্দিষ্ট স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও ডিবি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই নিয়মিত এই অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযানে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে ১১ অক্টোবর সপ্তম দফার অভিযানে ৩৫৩ জন এবং ৮ অক্টোবর ষষ্ঠ দফার অভিযানে ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছিল। তবে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে কতজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং কতজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকার মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপরাধে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকায় লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই কিশোরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুই কিশোরসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসার পর কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলার ১৮টি থানা ও ডিবির সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক, বিভিন্ন মামলায় জড়িত থাকা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।