কুমিল্লায় মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় এক রাতের বিশেষ অভিযানে ৩৫১ জনকে আটক করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও (ডিবি) সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার প্রতিটি থানা এলাকার যেসব স্থানে উঠতি বয়সি বখাটেদের উৎপাত বেশি, সেসব নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন।

এক রাতের এই অভিযানে আটক হওয়া ৩৫১ জনের অপরাধে সম্পৃক্ততা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকার বিনিময়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক অভিযানে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সর্বমোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৩ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বাকি ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, “উঠতি বয়সি কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রোধ করতেই নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।