নিরাপদ করপোরেট জীবনের মোহ ত্যাগ করে কমেডিয়ানের স্বপ্ন দেখেছিলেন সুমুখী সুরেশ। তবে মুম্বাইয়ের মতো ব্যয়বহুল শহরে এসে তিনি দ্রুতই উপলব্ধি করেন যে, বাস্তবের লড়াই স্বপ্নের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। বর্তমানে নেটফ্লিক্সে তাঁর প্রথম স্ট্যান্ডআপ কমেডি স্পেশাল ‘হোমোনাল’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানটি নিয়ে চর্চার মাঝেই দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন সুমুখী। তিনি জানান, স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলাকালীন অর্থের তীব্র সংকট, অনিশ্চয়তা এবং টিকে থাকার লড়াই কীভাবে তাঁর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছিল।
মুম্বাইয়ে আসার সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সুমুখী বলেন, “অন্য সবার মতো আমাকেও সংগ্রাম করতে হয়েছে। সব সময়ই অর্থের টানাপোড়েন ছিল। কারণ, আমি কিছুটা অবাস্তব কল্পনার মধ্যেও ছিলাম। যখন মুম্বাইয়ে আসি, তখন আমার ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৫০ হাজার রুপি (প্রায় ৬৭ হাজার টাকা) ছিল। ভেবেছিলাম, এই টাকা দিয়ে তিন–চার মাস চলে যেতে পারব। এখন মনে হয়, কী হাস্যকর ধারণা ছিল সেটা! মুম্বাইয়ে এক সপ্তাহের মধ্যেই এই টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে।”
তাঁর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, সেই সময়ে তাঁর প্রধান চিন্তা ছিল কীভাবে অর্থ উপার্জন করবেন এবং এই নতুন শহরে নিজেকে টিকিয়ে রাখবেন। করপোরেট জীবনের নিরাপত্তা ছেড়ে আসার পর সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে তিনি খুব বেশি চিন্তিত ছিলেন না। তবে পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন যে, জীবনের বড় সিদ্ধান্তের সঙ্গে বড় ঝুঁকিও জড়িয়ে থাকে।
নাগপুরের একটি মধ্যবিত্ত ও রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠা সুমুখীর জন্য নিরাপদ চাকরি ছেড়ে কমেডিয়ানের পথে হাঁটার পরিকল্পনাটি শুরুতে খুব একটা স্বাভাবিক ছিল না। পড়াশোনা শেষ করে তিনি পেশাদার জীবনে প্রবেশ করেন। পুষ্টিবিজ্ঞান, খাদ্য ও ডায়েটেটিকস বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের পর তিনি খাদ্য পরীক্ষাগার এবং খাদ্যমান যাচাইয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। করপোরেট চাকরিতে তাঁর জীবনের এক দশকেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে।
তবে পেশাগত কাজের বাইরেও নিজের সৃজনশীল সত্ত্বাকে বিকশিত করতে চাইতেন তিনি। শুরুতে সন্ধ্যার অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে ইম্প্রোভাইজেশন বা তাৎক্ষণিক অভিনয়ের চর্চা শুরু করেন। পাশাপাশি স্ট্যান্ডআপ কমেডি এবং ছোট ছোট স্কেচ তৈরি করতেন। ধীরে ধীরে তিনি অনুভব করেন যে, এই সৃজনশীল কাজগুলোর প্রতিই তাঁর প্রকৃত আগ্রহ বেশি।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সুমুখী জানান, করপোরেট জীবনে থাকাকালীন তাঁর মনে হতো জীবনের কিছু অংশ অপূর্ণ রয়ে গেছে। তাই তিনি ইম্প্রোভ, স্ট্যান্ডআপ এবং স্কেচ কমেডি শুরু করেছিলেন। একপর্যায়ে চাকরি এবং এই সৃজনশীল কাজগুলো একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তখনই তিনি কমেডিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
পেছনের দিনগুলোর কথা ভেবে তিনি এই সিদ্ধান্তকে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখেন। কারণ, নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা নেই এমন একটি পেশায় আসা সহজ ছিল না। বিশেষ করে রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশ থেকে আসা একজন নারীর জন্য নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেওয়া ছিল এক অনন্য চ্যালেঞ্জ।
কমেডি দিয়ে নিজের জায়গা তৈরি
সুমুখীর ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু হয়নি মুম্বাইয়ে, বরং শুরু হয়েছিল বেঙ্গালুরুতে। ২০১৩ সালের দিকে তিনি সেখানকার স্ট্যান্ডআপ কমেডি অঙ্গনে যুক্ত হন। তখন নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি কমেডির চর্চা চালিয়ে যেতেন। পরবর্তীতে ছোট ছোট ভিডিও এবং স্কেচের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পেতে শুরু করেন।
২০১৪ সালে ‘আনু আন্টি (দ্য ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্থেম)’ নামের একটি প্যারোডি ভিডিওতে অভিনয় করে তিনি ইন্টারনেটে ব্যাপক নজর কাড়েন। বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক কমেডি দল ‘দ্য এনথু কাটলেটস’-এর সঙ্গে করা এই ভিডিওতে তিনি এমন এক আন্টির চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাতে পছন্দ করেন। এই চরিত্রটি দর্শকদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়।
এরপর ‘বেহতি নাক’-সহ বিভিন্ন কমেডি স্কেচে কাজ করেন তিনি। পাশাপাশি ‘বেটার লাইফ ফাউন্ডেশন’ নামের মকুমেন্টারি সিরিজেও জায়গা করে নেন। অভিনয়, লেখালেখি এবং কমেডি—এই তিন ক্ষেত্রেই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে শুরু করেন সুমুখী।
সুমুখীর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক কাজ হলো ‘পুষ্পাবল্লী’। অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর এই সিরিজে নামভূমিকায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নির্মাণ ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রেমের টানে বেঙ্গালুরুতে আসা এক তরুণীর গল্প নিয়ে তৈরি এই সিরিজটি প্রচলিত রোমান্টিক ধারার বাইরে গিয়ে এক জটিল ও অস্বস্তিকর নারী চরিত্রকে সামনে আনে। প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে আবেগ, অধিকারবোধ এবং অনুসরণের প্রবণতা কীভাবে বিপজ্জনক হতে পারে, তা কমেডির মোড়কে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২০১৭ সালে প্রথম মৌসুম মুক্তির পর ২০২০ সালে আসে দ্বিতীয় মৌসুম। এই সিরিজটি সুমুখীকে অভিনেত্রী ও নির্মাতা হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচিতি দেয়। ২০২১ সালে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে তাঁকে ভারতের ডিজিটাল বিনোদন জগতের শুরুর দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট নির্মাতাদের একজন হিসেবে অভিহিত করা হয়।
শুধু অভিনয় নয়, নিজের চরিত্র নিজেই তৈরি করেছেন
অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথটি তাঁর জন্য সহজ ছিল না। প্রচলিত কাস্টিং প্রক্রিয়ার ধরন নিয়ে তিনি একাধিকবার হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, প্রচলিত সৌন্দর্যের মাপকাঠির সঙ্গে না মিললে অনেক দক্ষ অভিনেত্রীই প্রধান চরিত্রের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
২০২১ সালে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুমুখী জানান, অভিনয় করতে চাইলেও তাঁকে প্রায়ই বোন কিংবা বন্ধুর মতো পার্শ্বচরিত্রের কথা বলা হতো। তাই তিনি নিজেই নিজের জন্য প্রধান চরিত্র তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সেই ভাবনা থেকেই ‘পুষ্পাবল্লী’ নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি।
একই বছর তিনি নিজের প্রযোজনা ও কনটেন্ট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘মোটরমাউথ’ চালু করেন। সিনেমা, সিরিজ ও ব্র্যান্ডের জন্য কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি নারী চরিত্রের প্রচলিত উপস্থাপনা বদলে দিতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য ছিল, পর্দায় নারীদের কেবল আদর্শ স্ত্রী, আকর্ষণীয় প্রেমিকা কিংবা খলনায়িকা হিসেবে দেখানো হবে না; বরং বাস্তব জীবনের মতোই তাঁদের মধ্যে বৈপরীত্য, ভুল, দুর্বলতা ও শক্তি থাকবে। সুমুখীর ভাষায়, গল্প বলার ধরন বদলাতে হলে শুধু অভিযোগ করলে হবে না, নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতেও নারীদের থাকতে হবে।
‘হোমোনাল’ কেন আলাদা
সুমুখীর সাম্প্রতিক কাজ ‘হোমোনাল’। ২০২১ সালে এই অনুষ্ঠানের ধারণা ও লেখা শুরু করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ভারতের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এটি পরিবেশন করেন। ২০২৪ সালে এডিনবরা ফ্রিঞ্জ উৎসবে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য ছিল এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।
২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় এই অনুষ্ঠানের বিশেষ সংস্করণ। এটি তাঁর প্রথম নেটফ্লিক্স স্ট্যান্ডআপ স্পেশাল। এখানে তিনি নিজের তিরিশের দশকের জীবন, সম্পর্ক, একাকিত্ব, শরীরের পরিবর্তন, হরমোনজনিত সমস্যা, বিয়ে ও মাতৃত্ব নিয়ে সামাজিক চাপ—সবকিছুই হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। অনুষ্ঠানের নামটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ‘হোমোনাল’ শব্দটি হরমোনের পরিবর্তন এবং নারীর যৌনতা ও সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মজা করে তৈরি করা হয়েছে। নামের মধ্যেই রয়েছে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করার ইঙ্গিত।
নেটফ্লিক্সের প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, নারীর তিরিশের দশকের নানা জটিল অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক ও মাতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং সামাজিক প্রত্যাশাকে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেছেন সুমুখী। তবে দর্শক এতটা আবেগের সঙ্গে যুক্ত হবেন, তা তিনি আগে আশা করেননি।
প্রেম, একাকিত্ব ও রক্ষণশীলতার গল্প
‘হোমোনাল’-এ নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন সুমুখী। সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জীবনের প্রায় ১০ বছর তিনি একটি সম্পর্কে ছিলেন। একসময় বিয়ের জন্যও প্রস্তুত ছিলেন তিনি। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন, নিজের জীবনকে নতুন করে সাজাতে হলে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল।
নাগপুরের রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠায় প্রেম, ডেটিং কিংবা নিজের পছন্দমতো জীবন কাটানোর বিষয়ে তাঁর খুব বেশি স্বাধীনতা ছিল না। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখনকার সুমুখী তাঁর বিশের দশকের নিজেকে পরামর্শ দিতে চান, যেন একজন মানুষের মধ্যেই পুরো জীবনকে সীমাবদ্ধ না করে ফেলেন।
সাক্ষাৎকারে সুমুখী বলেন, বিশের দশকের নিজেকে বলতেন, আরও আনন্দ করতে, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে এবং জীবনকে একটু হালকাভাবে নিতে। অতীতের সম্পর্ক নিয়ে অনুশোচনা না থাকলেও মনে করেন, তখন নিজের জন্য আরও কিছুটা স্বাধীনতা রাখা উচিত ছিল।
অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিচারমূলক মন্তব্য নিয়েও রসিকতা করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, কমেডিয়ান হওয়ার জন্য চাকরি ছাড়ার পর আত্মীয়দের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। এখন আত্মীয়দের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ রাখেন না। এসব অভিজ্ঞতাই তাঁর কমেডির মূল উপাদান হয়ে উঠেছে।
নারী কমেডিয়ানদের জন্যও সহজ নয় মঞ্চ
ভারতে স্ট্যান্ডআপ কমেডির জনপ্রিয়তা বাড়লেও নারী কমেডিয়ানদের জন্য মঞ্চে কথা বলার জায়গা তৈরি করা এখনো কঠিন। বিশেষ করে নারীর শরীর, সম্পর্ক, যৌনতা ও সামাজিক ট্যাবু নিয়ে কথা বললে অনেক সময় সমালোচনা ও অনলাইন আক্রমণের মুখে পড়তে হয়।
২০২৬ সালের মে মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সুমুখী বলেছিলেন, “নারী কমেডিয়ানদের প্রতিদিনই অনলাইনে বাতিল করার চেষ্টা চলে। দর্শকের মন্তব্যের ঘর দেখলেই বিষয়টি বোঝা যায়।” একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কমেডি এখন আর কেবল ছোট একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; অনেক কমেডিয়ান নিজেদের ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন। তারপরও এই জগতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সৎভাবে কথা বলাই তাঁর কমেডির মূল শক্তি। কাউকে খুশি করার জন্য কিংবা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নিজের গল্পের স্বর বদলাতে চান না তিনি।
এখন কত টাকার মালিক
ভারতের দৈনিক জাগরণের একটি প্রতিবেদনে সুমুখীর সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি রুপি (প্রায় ২০ কোটি টাকা) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুমুখীর আয়ের বড় একটি উৎস হলো স্ট্যান্ডআপ কমেডি। ভারতের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি বিদেশেও তাঁর শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ডোন্ট টেল আম্মা’ ও ‘হোমোনাল’ তাঁর উল্লেখযোগ্য স্ট্যান্ডআপ অনুষ্ঠান। টিকিট বিক্রি, লাইভ শো ও আন্তর্জাতিক ট্যুর থেকে তিনি আয় করেন।
অভিনয় থেকেও নিয়মিত আয় করেছেন সুমুখী। অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর ‘পুষ্পাবল্লী’ তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। এ ছাড়া ‘কমিকস্তান’, ‘কমেডি প্রিমিয়াম লিগ’, ‘লাস্ট স্টোরিজ’ ও ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য ফিস্ট’-এর মতো প্রকল্পে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর প্রথম স্ট্যান্ডআপ স্পেশাল ‘ডোন্ট টেল আম্মা’ প্রচারিত হয়েছিল অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে।