মাত্র ২৯ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য বৃদ্ধির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, “নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে মাত্র ২৯ দিনে দুই দফায় এলপিজির দাম বাড়ানো কোনোভাবেই জনস্বার্থসম্মত নয়।” তারা উল্লেখ করেন যে, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা করার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরাসরি অর্থনৈতিক চাপে পড়বে। রান্নার খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের পরিচালন ব্যয় বাড়বে, যার চূড়ান্ত বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ ভোক্তাদেরই।
এবি পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে বারবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষের আয়, ক্রয়ক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাদের মতে, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে জনগণের স্বার্থ থাকা উচিত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিটি সিদ্ধান্তের দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা মনে করেন, জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাদের জীবনযাত্রাকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলা কোনোভাবেই একটি দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক নীতি হতে পারে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব যেমন পড়ে, তেমনি দাম কমলে সেই সুফলও সাধারণ জনগণকে পৌঁছে দিতে হবে। একতরফাভাবে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করে রাখার সুযোগ দেওয়া যাবে না বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
এমতাবস্থায়, এবি পার্টির নেতারা সরকারের প্রতি অবিলম্বে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ এবং অতিরিক্ত মুনাফাকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালনাসহ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তারা।
সবশেষে তারা বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।