জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়িত হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সনদের মোট ৫ হাজার ৬৯০টি শব্দের মধ্যে বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত কয়টি অক্ষর বাস্তবায়ন করতে পেরেছে, সাধারণ মানুষ সেই হিসাব জানতে আগ্রহী। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে সরকারকে জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে একদিন রাজনৈতিক ও আইনগত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন। এবি পার্টির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মঞ্জু বলেন, “কোন ভাষায় সমালোচনা করলে কিংবা কী ধরনের কর্মসূচি দিলে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হবেন না, তা তাঁদের জানা নেই।”
একই সভায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সরকার বর্তমানে উল্টো পথে হাঁটছে এবং বাকস্বাধীনতা হরণের একটি প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার পরিবর্তে সরকার সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করেছে। তাঁর মতে, বিরোধী দলগুলো যদি কেবল পাঁচ বছর পর ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় থেকে ‘কুসুম-কুসুম বিরোধিতা’ করে, তবে তা হবে একটি ভুল সিদ্ধান্ত।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জনগণ এখন বিচার এবং প্রকৃত সংস্কার প্রত্যাশা করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার চাইলেও কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দিতে পারে না। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্যই জুলাই সনদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ভয়েস অব রিফর্মের সংগঠক মাশরুর ফাহিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং সাইবার সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি না করে এখন বাস্তবায়নের দিকে এগোতে হবে।
অন্যদিকে, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নতুন বিতর্ক অতীতের রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন মানবাধিকারকর্মী ও কলামিস্ট আমাতুল্লাহ রুবী, এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবি পার্টির আহ্বায়ক আবদুল হালিম খোকনসহ অন্যান্যরা।