বর্তমানে ই-মেইল, প্রবন্ধ, ব্লগ পোস্ট থেকে শুরু করে সংবাদপত্রের কলাম এবং উচ্চতর গবেষণাপত্র লিখতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এআই মডেলগুলো এখন এতটাই উন্নত ও সাবলীলভাবে লিখতে সক্ষম যে, এর মাধ্যমে তৈরি গবেষণাপত্রের স্বত্বাধিকার এবং দায়বদ্ধতা নির্ধারণের প্রচলিত নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কিছু জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে শত শত গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। তবে এই গবেষণাপত্রগুলোর ক্ষেত্রে কোনো মানুষের নাম উল্লেখ না করে এআই-কে একক লেখক হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই পদক্ষেপটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কারণ অনেক গণিতবিদ ও গবেষক জানিয়েছেন যে, ওই গবেষণাপত্রগুলোর অনেক প্রমাণই তাঁদের কাছে দুর্বোধ্য ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সেসের বায়োএথিসিস্ট ডেভিড রেসনিক এই বিষয়ে তাঁর মতামত জানিয়ে বলেন, ‘আমরা যদি কোনো কিছু না বুঝি, তবে নৈতিক দিক থেকে আমরা তার দায়ভার নিতে পারি না।’

বর্তমান সময়ে একাডেমিক জার্নাল এবং প্রি-প্রিন্ট সার্ভারগুলোতে এআই-কে লেখক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব মেডিক্যাল জার্নাল এডিটরসের (আইসিএমজে) নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন লেখক হিসেবে গণ্য হতে হলে তাকে অবশ্যই গবেষণার পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগৃহীত তথ্যের বিশ্লেষণ এবং চূড়ান্ত লেখা যাচাইয়ের পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের বায়োএথিসিস্ট ব্রায়ান আরপ মনে করেন, এআই-এর এই উত্থানের ফলে লেখকত্বের প্রচলিত সংজ্ঞা ও ধারণাগত পরিধি পরিবর্তন করার সময় এসেছে। তিনি প্রস্তাব করেন, ‘এআই যুগের কারণে আমাদের লেখকত্বের সংজ্ঞা ও ধারণাগত পরিধি পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। এআই দিয়ে তৈরি গবেষণাপত্রের জন্য অন্তত একজন মানুষ সার্টিফায়িং অথর বা প্রত্যয়নকারী লেখক হিসেবে কাজ করতে পারেন, যিনি চূড়ান্ত ফলাফল যাচাই ও নিশ্চিত করবেন।’

আইসিএমজেই-এর নীতিমালার কথা উল্লেখ করে বায়োএথিসিস্ট ডেভিড রেসনিক আরও জানান, মানুষ যদি এআই-এর করা কাজগুলো বুঝতে সক্ষম না হয়, তবে সেই গবেষণাপত্র প্রকাশ করা উচিত নয়। একজন দায়িত্বশীল বিজ্ঞানীর জন্য এআই ঠিক কী প্রক্রিয়ায় কাজ করছে, তা ধাপে ধাপে তদারকি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, পিএলওএস সাময়িকীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভেরোনিক কিয়ারমার বলেন, গবেষণায় এআই-এর ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে তিনি মনে করেন, কেবল বানান সংশোধন বা ভাষার সামান্য পরিমার্জনের মতো সাধারণ ক্ষেত্রে প্রকাশ বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলে তা অর্থহীন কাজে পরিণত হবে।

উল্লেখ্য যে, ওপেনএআই তাদের প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রগুলোর জন্য কোনো একাডেমিক কৃতিত্ব দাবি করছে না। বরং প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞানীদের আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা এআই-এর তৈরি এই গবেষণাপত্রগুলো পর্যালোচনা করেন এবং বোঝার চেষ্টা করেন।