নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপক জোরদারকরণের পর নিজেদের সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাগারে একটি এআই মডেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর নিজেদের সবচেয়ে উন্নত এআই মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে এআই মডেলের দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করার লক্ষ্যে বিশেষ পরীক্ষা চালানো হয় এবং একটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পায় ওপেনএআই। ধারণা করা হচ্ছে, এই নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়েই গত মাসে একটি এআই মডেল গোপনে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিল। বর্তমানে সেই ত্রুটিটি সম্পূর্ণ সমাধানের পর পুনরায় এআই মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওপেনএআই জানিয়েছে, “ত্রুটিটি কাজে লাগিয়ে চাইলে আক্রান্ত সিস্টেমে নিজেদের কোড চালানো যায়।” প্রতিষ্ঠানটি আরও উল্লেখ করেছে যে, নোডডটজেএস, বান ও এনভয়–এর মতো বহুল ব্যবহৃত ওয়েব সফটওয়্যার চালিত সিস্টেমগুলোও এই ত্রুটির কারণে নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়তে পারে। উল্লেখ্য, ব্রটলির সোর্স কোডে থাকা এই ত্রুটিটি গত ফেব্রুয়ারিতে সংশোধন করা হয়েছিল, তবে সে সময় এটিকে বড় কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

চলতি বছরের শুরুর দিকে মেটিআর ও রেডউড রিসার্চ নামক দুটি এআই নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটি শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমন একটি ত্রুটি পাওয়া গিয়েছিল যার মাধ্যমে এআই এজেন্টগুলো তাদের শত শত কার্যক্রমের তথ্য মানুষের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আড়ালে লুকিয়ে রাখতে পারত। এর ফলে এজেন্টগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণ নজরদারির বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ত্রুটিগুলোর সমাধান করেছে ওপেনএআই।

ওপেনএআইয়ের দেওয়া তথ্যানুসারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো যত বেশি উন্নত হচ্ছে, সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিও তত বাড়ছে। তাই এআই মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেগুলোর নিরাপত্তা, নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যেই এআই মডেলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো আগেভাগেই শনাক্ত করতে মডেলগুলোর ওপর কঠোর পরীক্ষা চালানোর পাশাপাশি নজরদারির পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।