মোটরসাইকেল ফেরত চাইতে গিয়ে প্রতিপক্ষের নৃশংস হামলায় হোসেন মিয়া (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সহিংস ঘটনায় তার ছেলে সাইফুল ইসলামও গুরুতর আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সদর উপজেলার কাজিরদিঘীর বাজারে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত হোসেন মিয়া কাজিরদিঘীর পাড় এলাকার সুলতান আহমেদ ভূইয়ার সন্তান। পেশায় তিনি কাজিরদিঘীর পাড় বাজারে একজন দর্জি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে তার ছেলে সাইফুল ইসলাম একই বাজারে ফার্মেসির ব্যবসা পরিচালনা করেন।

পুলিশ এবং নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে সাইফুল ইসলামের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি একই বাড়ির শাকিল হোসেন কিছুক্ষণের জন্য চেয়ে নেন। তবে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১৩ দিন ধরে তা ফেরত দেওয়া হয়নি। রোববার সন্ধ্যার পর সাইফুল ইসলাম তার বাবা হোসেন মিয়া এবং আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলটি ফেরত পেতে কাজিরদিঘীর পাড় বাজারে শাকিলের কাছে যান। সেখানে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে শাকিল হোসেন তালবাহনা শুরু করেন।

তর্কাতর্কি চলাকালীন এক পর্যায়ে শাকিল হোসেন ও বিপ্লবসহ বেশ কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় হোসেন মিয়া এবং তার ছেলে সাইফুল ইসলাম গুরুতরভাবে আহত হন।

ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে দ্রুত সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক হোসেন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, “হোসেন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।” তিনি আরও জানান যে, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।