রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কোনো পৃথক ওয়ার্ড না থাকায় সাধারণ রোগীদের সাথে গাদাগাদি করে একই কক্ষে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাদের। এছাড়া অনেক ডেঙ্গু রোগীর শয্যায় মশারি না থাকায় ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে দুজন, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন এবং গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছেন। সেপ্টেম্বর মাসে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বছরের প্রথম নয় মাসে জেলা সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৬৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদেরও একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে। তবে ডেঙ্গু রোগীদের শয্যায় মশারির কোনো ব্যবস্থা নেই। রোগীরা জানান, হাসপাতাল থেকে তাদের মশারি দেওয়া হয়নি এবং মশারি টাঙানোর পর্যাপ্ত সুযোগও নেই।

সদর উপজেলার কল্যাণপুর থেকে ভর্তি হওয়া তাজেল বলেন, "ডেঙ্গু পরীক্ষা করে পজিটিভ এসেছে। হাসপাতাল থেকে মশারি দেওয়া হয়নি। নিজেদের মশারি টাঙানোরও ব্যবস্থা নেই। তার সঙ্গে স্ত্রীও রয়েছেন। তাকে নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। এখানে অনেক সাধারণ রোগীও চিকিৎসা নিচ্ছেন।"

বহরপুর থেকে ভর্তি হওয়া সালমান অভিযোগ করেন, "এখানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই। সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই তাদের রাখা হয়েছে। মশারি দেওয়া হয়নি, আবার টাঙানোর জায়গাও নেই। ওষুধ কিছু হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে, আবার কিছু বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।"

কালুখালী থেকে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আসা সায়েদ বলেন, "সাধারণ রোগী ও ডেঙ্গু রোগী একই জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ নিয়ে তারা টেনশনে আছেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আলাদা জায়গার ব্যবস্থা করা উচিত।"

ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র নার্স স্বপ্না বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, "হাসপাতাল থেকে মশারি দেওয়া হয়েছে কি না, সেটা তিনি জানেন না। তিনি ছুটিতে ছিলেন, আজই কাজে যোগ দিয়েছেন।"

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগের জবাবে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বেলায়েত বলেন, "হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই। তবে একটি কর্নার করা হয়েছে, সেখানে তাদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাসেবায় কোনো সমস্যা নেই।"

তিনি আরও যোগ করেন, "সব রোগীকেই মশারি দেওয়া হয়েছে এবং মশারি ব্যবহারের জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। হয়তো তারা ব্যবহার করছে না।"