কল্পনা করুন, সন্ধ্যা বা রাতে আপনার হঠাৎ একটি ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার প্রয়োজন হলো। কিন্তু ততক্ষণে ব্যাংকিং কার্যক্রমের সময় শেষ। সাধারণ পরিস্থিতিতে আপনাকে পরের দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো, তবে এখন আপনি সেই প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করে দিতে পারবেন।
ব্র্যাক ব্যাংকের কল সেন্টার ১৬২২১-এ ফোন করে কার্ড নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেই হবে। যদি সেই মুহূর্তে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব না হয়, তবে পরদিন সকালে ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আগের মতো শুরু থেকে পুনরায় নিজের নাম ও পরিচয় দেওয়ার কোনো ঝামেলা থাকবে না। আপনি যদি যোগ্য বিবেচিত হন, তবে আপনার হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া বা আপনার চাহিদামতো সেবা নিশ্চিত করা পর্যন্ত ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
গ্রাহকদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক এই বিশেষ ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। ব্যাংকটির বিশ্বাস, এই উদ্যোগের ফলে মানুষ আরও বেশি ব্যাংকমুখী হবে। গ্রাহককেন্দ্রিক এবং সম্পর্কভিত্তিক এই সেবার নামকরণ করা হয়েছে 'ওমনিচ্যানেল ব্যাংকিং'। ব্যাংকটির দাবি, বাংলাদেশে এটিই প্রথম এই ধরনের উদ্যোগ।
আজ রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ওমনিচ্যানেল ব্যাংকিংয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। নতুন এই মডেলে ব্যাংকের শাখা, উপশাখা, কল সেন্টার এবং ডিজিটাল চ্যানেলগুলোকে একটি সমন্বিত সার্ভিস ইকোসিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকেরা এখন যেকোনো একটি চ্যানেলে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই অন্য যেকোনো চ্যানেলে তা চালিয়ে যেতে পারবেন অথবা সম্পন্ন করতে পারবেন।
এর অর্থ হলো, আগের ধাপের কাজগুলো নতুন করে শুরু করার আর প্রয়োজন হবে না, যা ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ, গতিশীল এবং সুবিধাজনক করে তুলবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা এখন আরও নিরবচ্ছিন্ন, ধারাবাহিক এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান, অতিরিক্ত এমডি ও এসএমই বিভাগের প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন, ডিএমডি মো. মাহীযুল ইসলাম এবং শেখ মোহাম্মদ আশফাক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম হাসান বলেন, নতুন সেবা চালুর ফলে একজন গ্রাহককে সেবার জন্য বারবার ব্যাংকে আসা, ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন ও কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে না। বারবার একই প্রশ্ন করা হবে না। একবার যোগাযোগ করেই উপযুক্ত হলে ব্যাংক সেবার দিকে চলে যাবে। এ জন্য ব্যাংকের সব বিভাগকে প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ৭২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এখনো ব্যাংকিং সেবার বাইরে আছেন। তাঁদের বাইরে রেখে অর্থনীতির উন্নয়ন করা যাবে না। আমাদের এই সেবার অন্যতম লক্ষ্য তাঁদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা।’
মেহেরিয়ার এম হাসান আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা দেখেছি, ১০ জন গ্রাহক ব্যাংকে এলে দুজন সেবা নিতে পারেন। বিভিন্ন কারণে আটজনই সেবা না নিয়ে ফিরে যান। নতুন সেবায় সব গ্রাহকের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করে সেবা দেওয়া হবে।’
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘আমরা শুধু আর্থিকভাবে লাভবান নয়, সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছি। প্রায় আড়াই লাখ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে ভূমিকা রেখেছি।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই উদ্যোগটি ব্র্যাক ব্যাংকের একটি কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ। ব্যাংকটি এখন সাধারণ লেনদেনভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে সম্পর্কের ভিত্তির ব্যাংকিংয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিকস এবং ব্যাংক প্রতিনিধিদের সহায়তার সমন্বয়ে গ্রাহকদের প্রয়োজন সঠিকভাবে বোঝা এবং সেই অনুযায়ী সেবা প্রদানই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সব চ্যানেলে গ্রাহক তথ্য ও সেবার প্রক্রিয়াকে একীভূত করার মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক ব্যাংকিং সেবাকে আরও গ্রাহককেন্দ্রিক, সহজলভ্য এবং ব্যক্তিচাহিদা উপযোগী করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, যেকোনো মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য এবং পূর্ববর্তী যোগাযোগের বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে। ফলে ব্যাংকের সেবাপ্রদানকারী কর্মকর্তারা গ্রাহকের আগের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত থাকবেন এবং আরও নিখুঁত ও দ্রুত সেবা প্রদান করতে পারবেন।