গ্রাহকদের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও আধুনিক করতে স্মার্ট কুরিয়ার লকার ‘ডিজিবক্স’ স্থাপন শুরু করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ব্যাংক—ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। বর্তমানে এই বিশেষ বক্সগুলো ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার সামনে স্থাপন করা হয়েছে। তবে আগামী দিনে মেট্রোরেল স্টেশনের মতো জনবহুল স্থানেও এই লকারগুলো বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের।
ব্যাংকের শাখায় যারা এটিএম কার্ড, চেক বই কিংবা ব্যাংক হিসাবের বিবরণীর (স্টেটমেন্ট) জন্য আবেদন করেন, তারা এখন আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার ঝামেলায় পড়ছেন না। আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নথিগুলো যখন প্রস্তুত হয়, তখন গ্রাহক মোবাইলে একটি খুদে বার্তা পান। সেই বার্তার পর গ্রাহক তাঁর সুবিধামতো যেকোনো সময়ে এই বক্স থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সংগ্রহ করতে পারছেন। এই উদ্যোগের ফলে ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের ভিড় কমছে এবং গ্রাহকরা নিজেদের পছন্দমতো সময়ে সেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে ব্র্যাক ব্যাংক সর্বপ্রথম তাদের গুলশান নর্থ শাখায় এই ডিজিবক্স স্থাপন করে। পরবর্তীতে ব্যাংকটি গুলশান, মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, এলিফ্যান্ট রোড এবং সাত মসজিদ শাখাতেও এই সেবা চালু করেছে। অন্যদিকে, সিটি ব্যাংক সম্প্রতি তাদের গুলশান শাখায় এই ধরনের স্মার্ট লকার সেবা শুরু করেছে। সিটি ব্যাংক তাদের এই বিশেষ সেবার নামকরণ করেছে ‘অ্যাকসেস প্লাস’।
প্রযুক্তিগতভাবে ডিজিবক্স হলো একটি স্বয়ংক্রিয় বা স্মার্ট লকার সিস্টেম। যখন কোনো গ্রাহক নির্দিষ্ট সেবার জন্য শাখায় আবেদন করেন, তখন ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেই কার্ড বা চেক বই লকারে রেখে দেন। পার্সেলটি লকারে রাখার সাথে সাথেই গ্রাহকের মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) বা সিকিউরিটি কোডসহ মেসেজ চলে যায়। এরপর গ্রাহক যখনই সেখানে পৌঁছান, সেই কোডটি ব্যবহার করে লকারটি খুলে নিজের পার্সেলটি সংগ্রহ করেন। ফলে নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সময়ের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না।
ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত চেক বই ও এটিএম কার্ড গ্রাহকের স্বাক্ষর ছাড়া প্রদান করা হয় না। আবার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এগুলো কুরিয়ারের মাধ্যমে গ্রাহকের ঠিকানায় পাঠানো হয় না। সাধারণত এই সেবাগুলোর জন্য গ্রাহককে প্রথমে শাখায় এসে আবেদন করতে হয় এবং নথিগুলো পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগে। ফলে গ্রাহককে অন্তত দুবার ব্যাংকে আসতে হতো। তবে ডিজিবক্সের মাধ্যমে কার্ড বা চেক বই গ্রহণ করাকেই এখন গ্রাহকের স্বাক্ষর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, এই সুবিধার কারণেই নতুন এই সেবাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তারা আরও জানান, সব শাখায় এই বক্স স্থাপন করা সম্ভব হলে গ্রাহকরা ২৪ ঘণ্টা সেবা পাবেন এবং ওটিপি-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় পার্সেলগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।
নতুন এই সেবার বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মাহীয়ুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘গত জুনে এ ধরনের বক্স প্রথম নর্থ গুলশান শাখায় বসানো হয়। আমরা দেখলাম, অনেকে রাতেও বক্স থেকে সেবা গ্রহণ করছেন। এরপর আমরা অন্য শাখাতেও একই ধরনের বক্স বসিয়েছি। সেবাটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’
একই বিষয়ে সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান অরূপ হায়দার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চলতি বছরে ১৫টি শাখায় এই বক্স স্থাপন করব। এতে গ্রাহকেরা ২৪ ঘণ্টা সেবা পাবেন। ফলে গ্রাহকদের আর ব্যাংকিং সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।’