পেশাগত জীবন গড়ার ক্ষেত্রে গন্তব্য নির্বাচনের সময় কেবল মোট বেতনের অংক দেখলেই চলে না। কর এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক কর্তন শেষ করার পর একজন কর্মীর হাতে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা থাকে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি কর-পরবর্তী বেতনের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কিছু দেশে কর্মীদের কর-পরবর্তী আয়ের পরিমাণ অত্যন্ত সন্তোষজনক। তালিকার শীর্ষ ১০টি দেশের বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
১০. সুইডেন: ২৯.৫ ইউরো (প্রায় ৪,০৯৮ টাকা)
সুইডেন তার উদ্ভাবনী ক্ষমতা, আধুনিক কর্মসংস্কৃতি এবং কর্মক্ষেত্রে সমতাভিত্তিক সম্পর্কের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে বেতন আকর্ষণীয় হওয়া সত্ত্বেও ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
৯. ফ্রান্স: ৩০ ইউরো (প্রায় ৪,১৬৮ টাকা)
আধুনিক ও বহুমুখী অর্থনীতির সঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছে ফ্রান্স। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ কর্তন করা হলেও কর-পরবর্তী বেতনের পরিমাণ এখানে বেশ ভালো।
৮. ফিনল্যান্ড: ৩২.৬ ইউরো (প্রায় ৪,৫২৯ টাকা)
বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা এবং উচ্চ বেতনের জন্য ফিনল্যান্ড সুপরিচিত। তবে বর্তমানে দেশটির শ্রমবাজার বেশ চাপের মুখে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭. অস্ট্রিয়া: ৩৩.৮ ইউরো (প্রায় ৪,৬৯৬ টাকা)
উচ্চ কর্মদক্ষতাসম্পন্ন সামাজিক বাজার অর্থনীতির জন্য অস্ট্রিয়া পরিচিত। বিশেষ করে পর্যটন খাত এবং বিশেষায়িত উৎপাদনশিল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করার ফলে কর্মীদের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
৬. জার্মানি: ৩৪.৫ ইউরো (প্রায় ৪,৭৯৩ টাকা)
ইউরোপের শিল্প অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে জার্মানির অবস্থান অনস্বীকার্য। দেশটি তার কর্মীদের জন্য একটি স্থিতিশীল এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে থাকে।
৫. নেদারল্যান্ডস: ৩৬.৩ ইউরো (প্রায় ৫,০৪৩ টাকা)
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে নেদারল্যান্ডস অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার সংস্কৃতি দেশটির সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখে।
৪. আয়ারল্যান্ড: ৩৬.৬ ইউরো (প্রায় ৫,০৮৫ টাকা)
ওষুধশিল্প এবং প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি অভাবনীয় উন্নতি করেছে। এই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিফলন দেখা যায় কর্মীদের প্রতিযোগিতামূলক কর-পরবর্তী বেতনের অংকে।
৩. বেলজিয়াম: ৩৭.১ ইউরো (প্রায় ৫,১৫৫ টাকা)
বেলজিয়ামের করব্যবস্থা বেশ জটিল হলেও কর পরিশোধের পর কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সমন্বয়ের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা কর্মীদের প্রকৃত আয় ধরে রাখতে সাহায্য করে।
২. ডেনমার্ক: ৪৪.৭ ইউরো (প্রায় ৬,২১১ টাকা)
ডেনমার্কে একদিকে যেমন নমনীয় শ্রমবাজার রয়েছে, তেমনি রয়েছে শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। ফলে দেশটির কর্মীরা তাদের পেশাগত জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।
১. লুক্সেমবার্গ: ৪৯.৭ ইউরো (প্রায় ৬,৯০৬ টাকা)
আর্থিক খাতে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানের কারণে ইউরোপের এই ক্ষুদ্র দেশটি তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। উচ্চ ঘণ্টাপ্রতি বেতনের পাশাপাশি এখানে আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশ এবং শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা বিদ্যমান।