মলদ্বার ও পায়ুপথের ভেতরে রক্তনালির গুচ্ছ থাকে। যখন এই রক্তনালিগুলো ফুলে ওঠে, তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হেমোরয়েড এবং সাধারণ মানুষের ভাষায় পাইলস বলা হয়। ইন্টারনাল পাইলসের ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রঙের রক্তপাত হতে পারে।

পাইলস হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ দায়ী থাকে। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা, টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস, খাদতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবারের অভাব, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা, দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া কিংবা অনিয়মিত মলত্যাগ এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলে তা কি কেবল পাইলসের কারণেই হয়? এর উত্তর হলো— না, পাইলস একমাত্র কারণ নয়।

সাধারণত পাইলস ক্যানসারে পরিণত হয় না। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, পাইলস এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসারের কিছু উপসর্গ বা লক্ষণ একই রকম হতে পারে।

সব ধরনের পাইলসের জন্য অপারেশন প্রয়োজন হয় না। রোগের তীব্রতা এবং রোগীর উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারিত হয়। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, কোষ্ঠকাঠিন্যের সঠিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং রাবার ব্যান্ড লিগেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।

সতর্ক করা হচ্ছে যে, পাইলসের চিকিৎসার জন্য কোনো অজানা মিশ্রণের ওষুধ, মলম, পাউডার কিংবা মলদ্বারে কোনো ক্ষয়কারী বা অজ্ঞাত পদার্থ ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে পোড়া, ক্ষত, সংক্রমণ ও অন্যান্য জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পাইলস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। যেমন— শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, গোটা শস্য ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার নিয়মিত খেতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মূল লক্ষ্য হলো মল নরম রাখা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলা।

এছাড়া টয়লেটে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হেমোরয়েডের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন— বারবার মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, অধিক পরিমাণে রক্তপাত, মল কালো হয়ে যাওয়া, মলত্যাগের অভ্যাসে নতুন কোনো পরিবর্তন আসা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা রক্তস্বল্পতার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া, মলদ্বারের কাছে নতুন কোনো গুটি বা অস্বাভাবিক অংশ দেখা দেওয়া, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য এবং তীব্র ব্যথা বা জ্বরের সঙ্গে মলদ্বারের সমস্যা দেখা দেওয়া।

তথ্যসূত্র: ডা. মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দীন খান, সহকারী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ।