সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৫৯টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে মোট ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন। আজ শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেছে।

বেবিচকের দেওয়া তথ্যানুসারে, যে ফ্লাইটগুলো বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে তার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৮২টি। এর বিস্তারিত খতিয়ে দেখা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি, রিয়াদ এয়ারের ১৫টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মোট ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে, যার মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত।

ঘটনার সূত্রপাত ১০ অক্টোবর থেকে, যখন সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পর ফ্লাইট পরিচালনায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এই নিরাপত্তা সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিরই অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সকল ফ্লাইটের স্থগিতাদেশ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর বিমান কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, “যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে”।

বিমানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যারা জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে চান, তারা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন। যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা থেকে জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা থেকে মদিনা রুটেও নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছে।

স্থগিত থাকা ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেছে বিমান। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি।