সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সকল ফ্লাইটের স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই উড়োজাহাজ সংস্থাটি জানিয়েছে, যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে দাম্মাম রুটে ২৬ অক্টোবর এবং রিয়াদ রুটে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে যে, সৌদি আরবে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন। এই দুটি বিমানবন্দরের মাধ্যমে সৌদি আরবে প্রবেশ এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসা সম্ভব হবে।

যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনা করে গত ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা–জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। এই বিশেষ কার্যক্রম আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ঢাকা–মদিনা রুটে নিয়মিতভাবে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আরও জানিয়েছে, যেসব ফ্লাইট বর্তমানে স্থগিত রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং যাত্রার নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে। টিকিট বুকিং এবং ভ্রমণসংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১০ অক্টোবর রাতে হুতিদের হামলার ঘটনার পর ১১ অক্টোবর থেকে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের নির্দিষ্ট কিছু রুটে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত তিন দফায় ঢাকা–রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

এদিকে শনিবার রাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী মোট ১৪৪টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বাতিল ও স্থগিত হওয়া এই ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৭টি ছিল সরাসরি এবং ৭৭টি ছিল ট্রানজিট ফ্লাইট।