সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। স্থগিতের এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই রুটে বিমানের সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে। এর আগে এই স্থগিতাদেশ ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।”
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব যাত্রীর জরুরি প্রয়োজন রয়েছে, তারা সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন। যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে প্রতি ফ্লাইটে আসনসংখ্যা ১৪৮টি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
টিকিট বুকিং এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী এবং সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইটগুলোর স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি সৌদি আরব হয়ে চলাচলকারী ট্রানজিট ফ্লাইট মিলিয়ে মোট ১০৩টি ফ্লাইটের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে মোট ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বেবিচকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ৮টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২টিতে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৮টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৩টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এসব ট্রানজিট ফ্লাইটের মোট সংখ্যা ৬১টি।