সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামায় বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০৭টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট চলাচল করতে পারেনি, যার ফলে ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার পর তাদের সর্বশেষ তথ্যে এই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে।
বেবিচকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪টিতে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি ফ্লাইট চলাচল করতে পারেনি। এই ট্রানজিট ফ্লাইটের মোট সংখ্যা ৬৩টি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেবিচকের দেওয়া তথ্যে জানানো হয়েছিল যে, সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১০৩টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে এবং তখন ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৭৭৯ জন। শুক্রবার বিকেলের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে, বিঘ্নিত ফ্লাইটের সংখ্যা আরও ৪টি বেড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৪১ জন।
এদিকে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করার ফলে প্রতি ফ্লাইটে আসন সংখ্যা ১৪৮টি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য বিমানের নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি, ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলোও স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ওই এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা মদিনা ও জেদ্দা হয়ে সৌদি আরবে যাতায়াত করছেন।