সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধের ফলে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের মোট ১১৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল অথবা স্থগিত করা হয়েছে। এই আকস্মিক পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের ১৮ হাজার ৩৬২ জন যাত্রী চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন। বাতিল ও স্থগিত হওয়া এই ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৫২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে ৬৬টি।

আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বেবিচকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৩টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৩টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে।

জানা গেছে, হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রভাবে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইটগুলো বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের বিকল্প গন্তব্য হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস অনির্দিষ্টকালের জন্য রিয়াদের ফ্লাইট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পাশাপাশি, দাম্মামগামী ফ্লাইট আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। ২১ অক্টোবর থেকে এই রুটে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে মদিনা রুটে বড় উড়োজাহাজ যুক্ত করার পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার বিশেষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।

বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।