নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুলিশের গ্রেপ্তার করা এক হত্যা মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রামচরণ বাজারে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ছিনিয়ে নেওয়া ওই ব্যক্তির নাম নিজাম উদ্দিন (৫৫)। তিনি উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মৃত ছায়েদল হকের সন্তান। ২০২৫ সালে হাতিয়া থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তিনি তিন নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। এছাড়া তার বিরুদ্ধে থানায় আরও বেশ কিছু মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বারীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য তাকে গ্রেপ্তার করতে রামচরণ বাজারে যান। বাজারের এনসিপি কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে আটক করে যখন নিয়ে আসা হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে তার স্বজনেরা পুলিশের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের কাছ থেকে জোরপূর্বক নিজাম উদ্দিনকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ছিনতাইয়ের সময় পুলিশের ব্যবহৃত হাতকড়াটিও তারা সাথে করে নিয়ে যান।
এই ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আসামিকে পুনরায় ধরতে হাতিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল দ্রুত রামচরণ বাজারে পৌঁছায়। পরবর্তীতে পালিয়ে যাওয়া আসামির খোঁজে সুখচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযান চালানো হয়। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজাম উদ্দিন বর্তমানে সুখচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এক সময় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামচরণ বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানান, ঘটনার কিছু সময় পর নিজাম উদ্দিনের স্বজনেরা পুলিশের হাতকড়াটি বাজারে ফিরিয়ে দিয়ে যান। তবে রাতে পুলিশ বাজারের লোকজনকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে। পুলিশের এই পদক্ষেপের ফলে এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে তিনি জানান।
পুরো বিষয়টি নিয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “পুলিশ নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। এ সুযোগে তিনি পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”