নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুল জব্বারের জন্মদিন উদযাপনের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে কার্যালয়ের ভেতরেই জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মপরিবেশ ব্যাহত করে শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে কেক কাটছেন তিনি। এ সময় উপস্থিত শিক্ষকেরা ফুল ও উপহারের প্যাকেট হাতে তুলে দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষা কর্মকর্তা নিজের জন্মদিন নিয়ে একটি কবিতা পোস্ট করেন। এর পর থেকেই চাঁদা সংগ্রহের তোড়জোড় শুরু হয়। শিক্ষকদের থেকে সংগৃহীত এই চাঁদার অর্থে উপহারসামগ্রী কিনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সরকারি দপ্তরে বসে নিজের জন্মদিন পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল জব্বার দাবি করেন, তাঁর কার্যালয়ে এমন কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) ইশরাত নাসিমা হাবিব এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে তিনি ওই শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন।"
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের মঞ্জুর বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন, সরকারি দপ্তরে কাজের পরিবেশ নষ্ট করে জন্মদিনের মতো ব্যক্তিগত উৎসব পালন এবং উপহারসামগ্রী গ্রহণের মতো ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি সরকারি কর্মচারীদের শিষ্টাচার ও আচরণবিধির পরিপন্থী। অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।