বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ এবং অবিরাম বর্ষণের কারণে সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি মৌসুমের শুরুতেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজারো মৎস্যজীবী। লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়ার ফলে মাছ আহরণ এবং শুঁটকি তৈরির কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও ঋণ নিয়ে আসা জেলেরা এখন তাদের বিনিয়োগ হারানো এবং ঋণের বোঝা পরিশোধ করা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় জেলেদের দেওয়া তথ্যানুসারে, প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ দিক থেকে শুরু হয়ে মার্চ মাস পর্যন্ত সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোরকোল ও মেহেরআলীসহ বিভিন্ন চরে মাছ আহরণ এবং শুঁটকি তৈরির ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলে। এই নির্দিষ্ট মৌসুমে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী এসব চরে জড়ো হন। মৌসুম শুরুর আগেই তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে চরে এসে পৌঁছান এবং সেখানে অস্থায়ী বসতঘর, মাছ শুকানোর মাচা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করেন। তবে এবার মৌসুমের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের সেই দীর্ঘদিনের প্রস্তুতিগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুবলার চর ও এর আশপাশের এলাকায় শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেক জেলে তাদের নতুন ঘর এবং শুঁটকি তৈরির স্থাপনাগুলো নির্মাণ করতে পারেননি। এছাড়া সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে অনেকেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারেননি। যারা উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় মাছ ধরতে সক্ষম হয়েছেন, রোদের তীব্র অভাবের কারণে তারা সেই মাছ শুকাতে পারছেন না। ফলে মৌসুমের শুরুতেই মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদন কার্যক্রমে এক ধরণের স্থবিরতা নেমে এসেছে।

দুবলার চর জেলে পল্লীর সিও (ইনচার্জ) ফরেস্ট রেঞ্জার খলিলুর রহমান বলেন, “বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুবলার চর এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে মৌসুমের শুরুতে আসা জেলেরা মাছ আহরণ ও বসবাসের জন্য নতুন ঘর তৈরিতে বাধার মুখে পড়েছেন। জেলেদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ তাদের ঋণ ও বিনিয়োগ। মাছ আহরণ, শুঁটকি তৈরি এবং চরে বসবাসের খরচ মেটাতে অনেকেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও ধারদেনা নিয়ে এসেছেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় মাছ আহরণ ও মাছ শুকানোর কাজ ব্যাহত হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে তাদের বিনিয়োগ। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধেও সংকটে পড়তে পারেন তারা।”

অন্যদিকে, শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে বন বিভাগ এবার ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে বর্তমানের এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদন আশানুরূপ না হলে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।