সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে অবস্থিত সোনাতলা গ্রাম। এই জনপদ আর বনের মাঝখানে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে মাত্র একটি নদী। এক সময়ের প্রমত্ত ভোলা নদীটি এখন আকারে অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। নদীর পশ্চিম তটে রয়েছে বন আর পূর্ব তটে গড়ে উঠেছে মানুষের বসতি ও ফসলের মাঠ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুন্দরবন থেকে মাঝেমধ্যেই বড় বড় অজগর, কুমিরসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী এই এলাকায় চলে আসে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে এখানে দেখা দিয়েছে তীব্র বাঘ-আতঙ্ক।

আজ সোমবার সকালে সোনাতলা গ্রামে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করার খবর পাওয়া গেছে। ধানখেতে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে বলে বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়ে সবাইকে সচেতন করেছেন। তবে তারা জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই এবং সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার বিকেলের দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের একটি ধানখেতে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায়। এর আগে এক সপ্তাহ আগেও গ্রামটির পার্শ্ববর্তী নদীর তীরে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাঘের হেঁটে চলার ছাপ পাওয়া গিয়েছিল। এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার সোনাতলা গ্রামের মাঠ ও বিলের ধানখেতে ড্রোনের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়েছে বন বিভাগ। তবে ড্রোনের মাধ্যমে বাঘের কোনো অস্তিত্ব শনাক্ত করা যায়নি এবং এর অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বন বিভাগ, কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ (সিপিজি) এবং ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি)-সহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা বনসংলগ্ন এলাকাগুলোতে মাইকিং করছেন।

সোনাতলা গ্রামের সিপিজি সদস্য আবদুর লতিফ জানান, ধানখেতে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে বাঘটি নদী পার হয়ে গ্রামে প্রবেশ করেছে। এই ঘটনায় সবাই বেশ আতঙ্কিত।

আবদুর লতিফ বলেন, ‘আমরা রোববার রাতেই মিটিং করেছি। সবাইকে বলছি, যার যার গবাদিপশু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে। রাতে একা বের না হতে বলেছি। কয়েকটি জায়গায় ধানখেতে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে। বাঘ এখনো গ্রামের মধ্যে আছে কি না, ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। এখানে (ধানখেতে) বাঘ খুব ভয়ংকর হয়। দূর থেকে দেখা যায় না। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে বেশি।’

গতকাল বিকেলেই বন বিভাগের কর্মকর্তারা সোনাতলা গ্রামের ধানখেতে গিয়ে পায়ের ছাপগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং বাঘটি কোন দিকে গিয়েছে তা বোঝার চেষ্টা করেছেন।

এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তা (এসিএফ) শরিফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আজও সেখানে গিয়ে ড্রোন উড়িয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। পুরো মাঠটাই দেখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার রাতে বাঘটি এসেছে, হয়তোবা চলে যেতে পারে। তবে চলে গেছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

বাঘের পায়ের ছাপ দেখে চলাচলের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি উল্লেখ করে শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, আগেরবার যেমন বলা গিয়েছিল, বাঘটি বনে ফিরে গেছে। ধানখেতের মধ্যে ছাপ পুরোপুরি পরিষ্কার বোঝা যায় না। তবে সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে, চলেই হয়তো গেছে। তারপরও আগামী দুই-তিন দিন ওই এলাকায় বন বিভাগ, সিপিজি, ভিটিআরটির টহল দল থাকবে।