সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধভাবে কয়লা পাচারের চেষ্টার অভিযোগে ২৬০ টন ইন্দোনেশীয় কয়লাবোঝাই একটি বাল্কহেড কার্গো জাহাজ আটক করেছে বন বিভাগ। এই অভিযানে জাহাজের সাথে মোট ৯ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

গত রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীতে বন বিভাগের নিয়মিত টহল চলাকালীন এই কার্গো জাহাজটিকে আটক করা হয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জাহাজে থাকা বিপুল পরিমাণ কয়লার কোনো বৈধ মালিকানা পাওয়া যায়নি।

আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করে বন বিভাগ জানিয়েছে, তারা হলেন— তরিকুল ইসলাম (৩৪), দুলাল হাওলাদার (৩৪), সুমন তালুকদার (২১), নুরনবী (৩০), এনায়েত করিম (৪০), মো. ওবায়দুল (২২), মামুন (২২), মো. লায়েক মিয়া (৫০) ও কবির হোসেন (৩০)। আটক এই ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

রোববার রাতে সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জার শ্যামা প্রসাদ রায় এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তার নেতৃত্বে বনরক্ষীরা রোববার বিকেলে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীতে নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই কয়লাবোঝাই বাল্কহেড কার্গো জাহাজটি আটক করা হয়।

বন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা মোংলার পশুর নদীর জয়মনি এলাকায় অবস্থানরত একটি মাদার ভ্যাসেল থেকে ২৬০ টন ইন্দোনেশীয় কয়লা বোঝাই করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তারা নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে অবৈধভাবে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে অন্য কোথাও এই কয়লা পাচারের পরিকল্পনা করেছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় আটক ব্যক্তিদের এবং কয়লাবোঝাই জাহাজটিকে শরণখোলা স্টেশন ঘাটে নিয়ে আসা হয়।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, জাহাজে থাকা কয়লার কোনো মালিক পাওয়া যায়নি। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, “সুন্দরবনের ভোলা নদীতে কয়লাবোঝাই বাল্কহেড কার্গো জাহাজ আটকের খবর তিনি শুনেছেন। বন বিভাগ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”