পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে দুই দিনে অপহৃত হওয়া ২১ জন জেলের মধ্যে প্রায় এক সপ্তাহ পার হওয়ার পরেও কেউ উদ্ধার পাননি। তাদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়েও বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ও শনিবার পরপর দুই দিনে এই জেলেরা অপহৃত হন। ঘটনার পর সুন্দরবন ঘেঁষা মৎস্যজীবীদের মধ্যে দস্যুদের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্র ও শনিবার রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমড়বাড়িয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকায় জেলেরা মাছ ধরার সময় বনদস্যুরা হামলা চালায়। পৃথক ঘটনায় তিনটি দস্যুদলের সদস্যরা মোট ২১ জন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে গত শুক্রবার অপহৃত হয় ছয়জন। পরদিন শনিবার রাতে মাছ ধরার সময় জেলেরা বহরে হামলা চালায় বনদস্যুরা। তারা বিভিন্ন নৌকা থেকে একজন করে মোট ১৫ জন জেলেকে তুলে একটি ট্রলারে নিয়ে যায়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, "শনিবার রাতে সাগরসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেদের বহরে হামলা চালায় দস্যুরা।"

অপহৃতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, আরিফ, সগীর, মিঠু, ফেরদাউস, ইব্রাহিম, ইমরান, মোস্তাফিজুর, আলামিন, হানিফ ও মারুফ। তাদের মধ্যে প্রথম চারজনের বাড়ি খুলনায় বলে জানা গেছে। অন্যদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শরণখোলা এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে ও মহাজন জানান, দুই দিনে ২১ জেলে অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধার ও বনদস্যুদের দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

অপহৃত জেলেরা উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড। দস্যু ও জেলেরা অবস্থান শনাক্ত করতে সুন্দরবনের আকাশে ড্রোন উড়ানোর পাশাপাশি নৌপথে একাধিক দল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। জেলেরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করেছে বন বিভাগও।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, "দুই দিনে ২১ জেলেকে বনদস্যুরা অপহরণ করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কোস্ট গার্ডকেও অবহিত করা হয়েছে। বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেরা রাতে দলবদ্ধভাবে এবং বন কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে। জেলেরা নিরাপত্তায় বন বিভাগের স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেন বলেন, "সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। দস্যুদের অবস্থান শনাক্তে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি নৌপথে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে।"