আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি গড়লেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। পুরুষদের ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার গৌরব এখন তার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাত্র ১২০টি ম্যাচ খেলে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেন তিনি। বল হাতে ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও বিধ্বংসী রূপ দেখিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার, যেখানে মাত্র ৬ বলে চার ছক্কাসহ অপরাজিত ২৫ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৯ রানে পরাজিত করেছে আফগানিস্তান। তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় লড়াইয়েই এই জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল আফগানরা, আর সেই বিশেষ দিনেই নিজের ক্যারিয়ারের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন রশিদ।

ম্যাচের নবম ওভারে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ওই ওভারের তৃতীয় বলে তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে এলবিডব্লিউ (LBW) করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের ২০০তম শিকারটি করেন রশিদ। এর মাধ্যমে পুরুষ বোলারদের মধ্যে এই ফরম্যাটে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে দুই শ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ডটি তার নামে লেখা হলো।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, মাত্র ১২০ ম্যাচে ২০০ উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে রশিদের বোলিং গড় অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত, যা দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৬। প্রতি ওভারে তিনি গড়ে খরচ করেছেন ৬ দশমিক ১৩ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত দুবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগারটি হলো ৩ রানে ৫ উইকেট।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় এখন শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন রশিদ খান। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ ১৫৩ ম্যাচে নিয়েছেন ১৭১টি উইকেট। অর্থাৎ, ইংলিশ লেগ স্পিনারের চেয়ে ২৯টি উইকেটে এগিয়ে রয়েছেন আফগান এই তারকা।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের অক্টোবরে আবুধাবিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে প্রথম আফগান বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন রশিদ। এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও সবার আগে এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন তিনি।

তবে এই ঐতিহাসিক ম্যাচে শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না আফগানিস্তানের। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দলটি, মাত্র ৫ রানেই তারা হারিয়ে ফেলে ৪টি উইকেট। নবম ওভারে ৩৮ রানেই পড়ে যায় তাদের পঞ্চম উইকেট। তবে সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে রেকর্ড ১৪২ রানের এক বিশাল জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও ইজাজ আহমদজাই।

বিপজ্জনক ব্যাটিং করে মাত্র ৫০ বলে ৫টি চার ও ১২টি ছক্কায় ১১৬ রান করেন ওমরজাই। অন্যদিকে ২৭ বলে ৫২ রান করেন ইজাজ। শেষ দিকে রশিদের ৬ বলে অপরাজিত ২৫ রানের ঝড়ে ৭ উইকেটে ২২১ রানের পাহাড় গড়ে আফগানিস্তান।

জবাবে ২২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত খেলেন। তিনি ৫৬ বলে ৫টি চার ও ৯টি ছক্কায় অপরাজিত ১০৬ রান করলেও দলকে জয় এনে দিতে ব্যর্থ হন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২০২ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ। আফগানিস্তানের হয়ে আবদুল্লাহ আহমদজাই দুটি এবং রশিদ, ওমরজাই ও ফরিদ আহমদ একটি করে উইকেট শিকার করেন। চার ওভারে ২৯ রান খরচ করেছেন রশিদ।

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের আলোয় পুরো ম্যাচজুড়ে উজ্জ্বল ছিলেন রশিদ খান। প্রথম পুরুষ বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ উইকেটের ইতিহাস গড়ে এই ম্যাচটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় দিনে পরিণত করেছেন তিনি।

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে আফগানিস্তান। আগামী ১ নভেম্বর শারজাহতেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি।