মাঠে গোলের দেখা পাননি লিওনেল মেসি। উল্টো রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় দেখতে হয়েছে হলুদ কার্ড। আর্জেন্টাইন মহাতারকার জন্য হতাশার রাতটি জয় দিয়ে রাঙাতে পারেনি ইন্টার মায়ামিও। নিজেদের মাঠে এফসি সিনসিনাটির বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও পরে পিছিয়ে পড়ে মেসির দল। শেষ মুহূর্তে রিকেলমে ফিলিপির গোলে হার এড়ালেও ২-২ সমতায় গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারিয়েছে মায়ামি। সেই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে মেসির সম্ভাব্য এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে মায়ামির নু স্টেডিয়ামে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নিয়মিত মৌসুমের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। শুরু থেকেই বলের দখল রেখে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে স্বাগতিকেরা। তবে সিনসিনাটির রক্ষণভাগ ভাঙতে প্রথমার্ধে সফল হয়নি মায়ামি। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যাওয়ার আগেই ঘটে মেসির হলুদ কার্ড দেখার ঘটনা।
ম্যাচের ৪৪ মিনিটে সিনসিনাটির স্যামুয়েল গিদির সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে জড়ান মেসি। এ সময় গিদি মাঠে পড়ে গেলে কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ থাকে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্রুত খেলা শুরু করার জন্য রেফারি আরমান্দো ভিয়ারিয়ালের কাছে দাবি জানান মেসি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
রেফারির সিদ্ধান্তে বিস্মিত হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় আলোচনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম হেভি স্পোর্টস জানিয়েছে, অ্যাপল টিভির স্প্যানিশ ধারাভাষ্যকাররাও এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ম্যাচের আনুষ্ঠানিক বিবরণে হলুদ কার্ড দেখানোর কারণ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়নি।
এই হলুদ কার্ডের পরই মেসির সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে খবর প্রকাশ করে এএস। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, চলতি মৌসুমে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখায় নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। এর আগে কলোরাডো র্যাপিডস, অরল্যান্ডো সিটি, ন্যাশভিল ও আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন মেসি।
তবে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখলেই মেসির নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত হচ্ছে না। এমএলএসের নিয়ম অনুযায়ী, টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো হলুদ বা লাল কার্ড এবং অতিরিক্ত শৃঙ্খলামূলক শাস্তি না পেলে একজন ফুটবলারের জমা হলুদ কার্ডের হিসাব থেকে একটি কমে যায়। মেসির ম্যাচভিত্তিক রেকর্ডেও এমন একাধিক কার্ডবিহীন সময় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া লিগের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত নিষেধাজ্ঞার সতর্কতামূলক তালিকায় তার নাম ছিল না। ফলে এএসের দাবি সত্ত্বেও পরবর্তী ম্যাচে মেসির নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
এদিকে মাঠের লড়াইয়ে প্রথমার্ধে কোনো দল গোল করতে না পারলেও বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৬১ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরোর বাড়ানো বল বক্সের বাঁ দিক থেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। চলতি এমএলএস মৌসুমে এটি সুয়ারেজের ১৬তম গোল।
লিড নেওয়ার পর ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করে মায়ামি। তবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকেরা। অন্যদিকে ম্যাচের শেষ ভাগে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় সিনসিনাটি। ৮০ মিনিটে কেনজি এমবোমা ডেমের গোলে সমতায় ফেরে সফরকারীরা।
সমতায় ফেরার ছয় মিনিট পরই মায়ামিকে আরেকটি ধাক্কা দেয় সিনসিনাটি। ৮৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে সফরকারীদের এগিয়ে দেন স্যামুয়েল গিদি। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে হারের শঙ্কায় পড়ে যায় মেসির দল।
তবে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে মাঠ ছাড়তে হয়নি মায়ামিকে। ৮৩ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রিকেলমে ফিলিপি ৯০ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন। রদ্রিগো ডি পলের পাস পেয়ে বাঁ প্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি। মায়ামির জার্সিতে এটিই ফিলিপির প্রথম গোল।
শেষ মুহূর্তে জয়ের সুযোগ পেয়েছিল সিনসিনাটিও। তবে সফরকারীদের অধিনায়ক এভান্দারের বিপজ্জনক শট শরীর দিয়ে ঠেকিয়ে দেন মায়ামির ডিফেন্ডার ইয়ান ফ্রে। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
পুরো ম্যাচে ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল ইন্টার মায়ামির। মেসির দল মোট ১৪টি শট নেয়, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে সিনসিনাটির ১৩টি শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল। গোল করতে না পারা মেসি পাঁচটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
এই ড্রয়ে ৩২ ম্যাচ শেষে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের তৃতীয় স্থানেই রয়েছে ইন্টার মায়ামি। একই দিনে নিউইয়র্ক রেড বুলসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ৫৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশন। নিয়মিত মৌসুমে দুই দলেরই এখন দুটি করে ম্যাচ বাকি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আগামী রোববার (১ নভেম্বর) নিউ ইংল্যান্ডের মাঠে খেলবে মায়ামি। কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থান দখলের লড়াইয়ে ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।