আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচটি খেলার পর খুব বেশি সময় বিশ্রামে কাটাননি লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানোর মাত্র দুই দিন পরেই তিনি ইন্টার মায়ামির অনুশীলনে ফিরে এসেছেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় শেষ হয়ে গেলেও ক্লাব ফুটবলে মেসির সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। গত বছর এমএলএস কাপ জয় করা মায়ামি এবার সেই শিরোপা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ইন্টার মায়ামির অনুশীলনে যোগ দেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। মেসির পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলও অনুশীলনে ফিরেছেন। অনুশীলনের সময় মেসিকে বেশ হাসিখুশি দেখা গেছে। লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে মেসির একটি ছবি প্রকাশ করে মায়ামি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, ‘সব নজর শনিবারের দিকে।’

গত মঙ্গলবার বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছিল আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের মাধ্যমে আরও দুটি গোল করান মেসি। ম্যাচ শেষে অত্যন্ত আবেগঘন এক পরিবেশে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি।

তবে ক্লাব ফুটবলে ফেরার পর মেসির সামনে পথটি খুব একটা সহজ হবে না। এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে ২৭ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। তালিকার শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে তারা ১৪ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। আগস্ট মাসের শুরু থেকে লিগে খেলা শেষ ১০টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে দলটি।

এর মধ্যেই আগামী শনিবার ঘরের মাঠ নু স্টেডিয়ামে ডিসি ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে মায়ামি। বাংলাদেশ সময় রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটায় শুরু হবে এই ম্যাচটি। আর্জেন্টিনা থেকে ফেরার পর এটিই হতে পারে মেসির প্রথম ম্যাচ।

দলের সাম্প্রতিক ফর্ম খুব একটা আশাব্যঞ্জক না হলেও ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মেসি। চলতি এমএলএস মৌসুমে ২৪ ম্যাচে ২১টি গোল করেছেন তিনি এবং সতীর্থদের জন্য ১৩টি গোলের সুযোগ করে দিয়েছেন। গোলদাতার তালিকায় তিনি এককভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন এবং গোলে সহায়তার ক্ষেত্রে যৌথভাবে সবার উপরে আছেন।

গত বছর প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ জয় করেছিল ইন্টার মায়ামি। এবার সেই শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবে কোচ কিলি গঞ্জালেসের দল। নিয়মিত মৌসুমের আরও সাতটি ম্যাচ বাকি রয়েছে তাদের। প্রথম সাতটি দলের মধ্যে থেকে সরাসরি প্লে-অফের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করাই এখন মায়ামির প্রধান লক্ষ্য।