হত্যা মামলায় ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের তিনটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তবে ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর এমপি আব্দুল আজিজ দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ভিডিওগুলো তৈরি করা হয়েছে। তার দাবি, এসব ভিডিওর কোনো বাস্তব ভিত্তি বা সত্যতা নেই।

এই বিষয়ে মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে এমপি আব্দুল আজিজ বলেন, “ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। আমার রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। এখন ইন্টারনেটের যুগ, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করা যায়। প্রতিপক্ষ আমার সুনাম ও সুখ্যাতি নষ্ট করা জন্য এগুলো তৈরি করছে।”

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকেই নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের তিনটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, এমপি আব্দুল আজিজ একটি ঘরের ভেতরে খাটের ওপর লুঙ্গি পরে খালি গায়ে শুয়ে আছেন। সেই সময় একজন নারীর কণ্ঠে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তার মাধ্যমে তাকে সঙ্গ দেওয়া হচ্ছে বলে মনে হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর জেলা সনাকের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “একজন সংসদ সদস্য দেশের আইন প্রণেতা। তিনি যদি এমন অপকর্ম করেন তাহলে আমাদের সমাজের কী হবে। একজন সংসদ সদস্যের এমন নৈতিক স্খলন কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী এগুলো যেন টলারেট না করে সেজন্য আমি আহ্বান জানাবো।”

অন্যদিকে, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ এ বিষয়ে মুক্তকণ্ঠকে জানান, কোনো সদস্য বা দলের কারো নৈতিক স্খলন হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “আহ্বায়ক কমিটির চলতি মাসের সভায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ দলের ঊর্ধ্বে না। দলীয় শৃঙ্খলা দলের সবার জন্য সমান।”