নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তদন্তের স্বার্থে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিন্টুর জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া শেষ হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম গ্রেপ্তার এবং রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে গুরুদাসপুর বাজারপাড়া মহল্লায় একটি ভাড়া বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিন্টুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে নাটোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের দুই ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু ও মাহমুদুজ্জামান সোহাগের আলাদা অনুসারী ও সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের সোহাগের অনুসারী ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, দুই ভাইয়ের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই শাকিল ইসলামের হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

নিহত শাকিল ইসলামের বাবা ও মামলার বাদী রবিউল করিম মিস্ত্রি জানান, গত ১৪ অক্টোবর রাতে বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত শাকিলকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার রাতে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শাকিল হোসেনের মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, "ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যার বিচার চান তিনি।" এছাড়া তিনি জানান, বাদ এশা গুরুদাসপুর বিল চলন শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে শাকিলের জানাজা শেষে রাতেই পুরানপাড়া কেন্দ্রীয় গোরস্তানে দাফন করা হবে।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন সৃজন এই বিষয়ে বলেন, "শাকিলের হত্যাকারীরা যতবড় শক্তিশালীই হোক, সে যদি দলেও হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।" তিনি আরও জানান, শাকিলকে হত্যার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে মিন্টু জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম মিস্ত্রি বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম পুনরায় নিশ্চিত করে বলেন, ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অধিক তদন্তের জন্য ১০ দিন রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।