রাজবাড়ী জেলা শহরের সজ্জনকান্দায় পিয়ারুল সরদারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছাত্রদল নেতা মো. শামীম আহসানসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামি সুমন মণ্ডল ইতিমধ্যে আদালতের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত শামীমের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি মুরগির খামারের বালুর নিচ থেকে ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শামীমের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ফরিদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত শামীম আহসান (৩৬) রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আলতাফ হোসেন মিলিটারির ছেলে। তিনি রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং সদর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, পিয়ারুল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে সোমবার রাতে সদর উপজেলার চরখানাপুর শেখপাড়া এলাকায় শামীমের বাবার মালিকানাধীন একটি মুরগির খামারে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় খামারের বালুর নিচে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর এজাহার দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, পুলিশের অপরাধী তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, শামীম আহসানের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ মোট চারটি মামলার তথ্য রয়েছে।

এর আগে গত রোববার রাতে সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকা থেকে সুমন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার আব্দুল কাদের মণ্ডল মিয়ার ছেলে। ওসি জানান, সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে উত্তর পাশের কলাপসিবল গেটের সামনে পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন পিয়ারুল সরদার ওরফে পিয়ারুল ইসলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সেখানে আসেন এবং তাদের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এর মধ্যে একটি গুলি তার বুকের বাঁ পাশে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পশ্চিম দিকে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন পিয়ারুলকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার পথে রাত ৮টা ৫ মিনিটে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত রোববার বিকেলে নিহতের স্ত্রী ফারজানা হক অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নিহত পিয়ারুল সরদারের বিরুদ্ধেও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৫টি মামলা ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।