ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর মাত্র এক দিন বাকি। এই চূড়ান্ত মুহূর্তে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকায় পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের কাছে পৃথকভাবে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দাখিল করেছেন জেলা জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন এবং বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “নির্বাচনি প্রচার শেষ হওয়ার পর ইএসডিও নামের একটি স্থানীয় এনজিওর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে এবং সেখানে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তাদের প্রভাবিত করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এ ধরনের কর্মকাণ্ড আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, এই তালিকায় একটি নির্দিষ্ট দলের অনুসারীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আখানগরের বলিতাপাড়ায় তাদের নির্বাচনি উঠান বৈঠকে বিএনপি সমর্থকদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই ঘটনায় কোনো বিচার পাননি বলে তিনি জানান। দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “হামলা ও ভাঙচুর হলো আমাদের ওপর, আমাদের লোক আহত হলো, অথচ কোনো বিচার না পেয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে জামায়াত প্রার্থী আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভোটের দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই তিনি নির্বাচনে থাকবেন কি না, তা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।

সাক্ষাৎকারের সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিম ও জেলা সহকারী কফিল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, জামায়াতের আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলা বিএনপির প্রতিনিধি ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. আতাউর রহমান। তিনি জানান, তারাও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাল্টা অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তার দাবি, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকায় জামায়াতঘনিষ্ঠ বেশ কিছু ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য প্রতিপক্ষ নানা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জামায়াতের অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান বলেন, “বিএনপি একটি বড় দল, মাঠপর্যায়ে অসংখ্য সমর্থক রয়েছে। বড় নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়।” তবে তিনি আরও জানান, তাদের প্রার্থী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রতিপক্ষ কোনো উসকানি দিলেও যেন ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলে নির্বাচন সুষ্ঠু রাখা হয়।

পুরো বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগই তারা পেয়েছেন। একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রাখা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।