রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ (সদর-রুহিয়া-ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর পুরোদমে প্রচার কার্যক্রমে নেমেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পাওয়ার পরপরই দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পৃথকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীরা।

বিএনপির সমর্থকদের তৎপরতা শুরু হয় গতকাল বুধবার গভীর রাত থেকেই। শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে ব্যানার, ফেস্টুন এবং বিলবোর্ড টাঙানো হয়। আজ দুপুর দুইটার পর থেকে পুরো শহরজুড়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে মাইকিং শুরু হয়। বেলা পৌনে তিনটার দিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তায় ভোটারদের মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ এবং ভোট প্রার্থনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেন বিএনপির প্রার্থী, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন। এরপর তিনি শহরের বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে গণসংযোগ করেন।

প্রচারণা চলাকালীন মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘আজ থেকে প্রচারণা শুরু হয়েছে। এলাকায় এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো শুরু হয়েছে। আজ ইউনিয়ন কার্যালয়গুলো উদ্বোধন হবে। এরপর দলের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করব। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে দলের ইশতেহার তুলে ধরব।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের অভিভাবক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। তিনি এলাকার যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই উপনির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। ধানের শীষে ভোট দেওয়া মানেই এলাকার উন্নয়নের পক্ষে সমর্থন দেওয়া।’

বিএনপির এই প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেনসহ আরও অনেকে।

অন্যদিকে, আজ বিকেলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যানার-ফেস্টুন টাঙাতে শুরু করেন। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভোটারদের মাঝে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ ও ভোট চাওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এর আগে দুপুরে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে একটি মিছিল বের করা হয়।

প্রচারণার এক পর্যায়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘এই নির্বাচনের পর স্থানীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা বোঝা যাবে। গত নির্বাচনে ভোটাররা আমাকে বিপুল পরিমাণ ভোট দিয়েছিলেন। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে এলাকার ভোটাররা আমাকেই বেছে নেবেন। আমি আগামী দিনে সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়ায় কাজ করব। সরকারের পক্ষ থেকে যে বরাদ্দ আসবে, তা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব।’

জামায়াতের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুল হাকিম, জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান এবং সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়াও আরও কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। তবে আজ তাঁদের প্রচারণার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ২৭ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত। এই নির্বাচনী আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।