ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত সময়ে ভোট দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তাঁরা নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট দেওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন জয়ের ব্যাপারে প্রবল আত্মবিশ্বাস ও আশা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
সকাল পৌনে নয়টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ভোট প্রদান করেন। এই সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি এবং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই।
ভোট দেওয়ার পর মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘আশা অবশ্যই জয়। এখন আমি অন্যসব কেন্দ্রগুলোতে যাব, ভোটের কী পরিবেশ তা দেখব। আমার কাছে হচ্ছে মনে হয়, ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন।’ ভোটে কোনো শঙ্কা আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটে আমি কোনো শঙ্কা দেখি না।’
অন্যদিকে, সকাল সাড়ে আটটার দিকে শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। ভোটারদের নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে স্বপ্নের ঠাকুরগাঁও গড়তে ভূমিকা রাখুন।’
ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘এই ভোটকেন্দ্রে যিনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর গলায় থাকা পরিচয়পত্রে কোনো ছবি নেই। যত দূর শুনেছি, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কার্ডেও কোনো ছবি নেই। যদি কার্ডের মধ্যে কোনো ছবি না থাকে, তাহলে কীভাবে বুঝব যে তিনি ওই ব্যক্তি? অন্য কেউ তো প্রক্সি দিতে পারে। আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দ্রুত সময়ে বিষয়টি দেখার অনুরোধ রাখছি।’
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, ‘এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, এটি পুরোটাই নির্ভর করছে সরকার ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের ওপর। যদি তাঁরা এটা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আগামীতে স্থানীয় সরকারের যতগুলো নির্বাচন হবে, কোনোটিই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’
দেলাওয়ার হোসেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি এই নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। আজ সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। স্থানীয় ভোটারদের অনেকেরই ধারণা, মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে।
এদিকে, উপনির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে গতকাল রাতে প্রত্যাহার করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি দলের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের সরিয়ে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রাত ১১টার দিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
প্রত্যাহার করা কর্মকর্তাদের তালিকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও একজন ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, ঠাকুরগাঁও রোড বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জুলফিকার আলী, গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন, সালন্দর পাঁচপীর ডাঙ্গা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম, সিংগিয়া মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দৌলতপুর সলেমান খান বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান, বালাপাড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শাহাদুল ইসলাম এবং বড়গ্রাম আলিম মাদ্রাসার সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার।