মিরপুর টেস্টের আগে উইকেটের ধরন নিয়ে রহস্য বজায় রেখেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান এবং হাসিমুখে এমন কিছু কথা বলেন, যা শুনলে হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল সহজেই এই ধাঁধার সমাধান করে ফেলত। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের এই রহস্যময় আচরণই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, উইকেটের দৃশ্য দেখলেই সাধারণত এর আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিরুদ্ধে সাধারণত স্পিন-সহায়ক পিচ তৈরির কথা থাকে। তবে এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত দেখা গেছে, শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটটি ঘাসে ঢাকা ছিল। সাধারণত এমন অবস্থায় পেসাররা বেশি সুবিধা পান বলে ধরে নেওয়া হয়।
তবে এই রহস্যের সমাধান নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ। তাঁর ধারণা, ম্যাচের শুরুর দিকে উইকেটের ধরন বদলে যেতে পারে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গতকাল আমি উইকেট দেখেছি। তবে আমার মনে হয় না আগামীকালও উইকেটটা এমন থাকবে। সম্ভবত আরও কিছুটা ঘাস ছেঁটে ফেলা হবে কিংবা উইকেট তৈরির কাজ আরও কিছুটা করা হবে।”
যদিও উইকেটের প্রকৃতি নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। তাঁদের বিশ্বাস, পিচ পেস-সহায়ক হোক বা স্পিন-সহায়ক, তা উভয় দলের জন্যই সমানভাবে কার্যকর হবে। প্রায় এক সপ্তাহ আগেই ঢাকায় পৌঁছে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এখন কেবল স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় মনোনিবেশ করছে।
উইকেটের প্রভাব নিয়ে রোস্টন চেজ আরও বলেন, “উইকেটের ব্যাপারটা হলো, দুই দলকেই এখানে খেলতে হবে। এমন তো নয় যে এক দল উইকেট থেকে কোনো সুবিধা পাবে, আর পরের দল সেই সুবিধা পাবে না। এখানে চার ইনিংসের খেলা হবে। তাই আমার মনে হয়, যারা উইকেটের সঙ্গে সবচেয়ে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত জিতবে।”
আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া মিরপুর টেস্টের উইকেটটি শেষ পর্যন্ত স্পিন-সহায়ক হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবেও ধাঁধার কথা উল্লেখ করেন চেজ। তিনি বলেন, “ঘাস থাকলে স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে, উইকেটটা পেসারদের বেশি সহায়ক হবে। তবে উইকেট দেখে মনে হচ্ছে, নিচের অংশটা এখনো কিছুটা শুষ্ক। আর এটা বাংলাদেশ, যারা মূলত স্পিননির্ভর ক্রিকেটের জন্যই পরিচিত। তাই আমাদের ধারণা, এই উইকেটে স্পিনও থাকবে।”