‘ভালো লাগছে টেস্ট ম্যাচেও এত সাংবাদিক আসছে।’ প্রেস কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের উপচে পড়া ভিড় দেখে নাজমুল হোসেনের মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। একজন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ক্রিকেট অনুরাগীদের এই প্রবল আগ্রহ তাঁর জন্য স্বাভাবিকভাবেই অনুপ্রেরণার উৎস।
টেস্ট ক্রিকেটে বর্তমানে বাংলাদেশের সময়টি বেশ উজ্জ্বল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে হিসাব করলে দেখা যায়, সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্ট পর্যন্ত মোট ১৩টি টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ ৭টিতে জয়লাভ করেছে, ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং ৪টিতে পরাজয় এসেছে। এই সাফল্যের খতিয়ানে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে পাওয়া ঐতিহাসিক টেস্ট জয়টি।
এর আগে মে মাসে ঘরের মাঠের লড়াইয়ে পাকিস্তান দলের বিপক্ষেও দাপুটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের শুরু থেকে নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাদা বলের ক্রিকেটের তুলনায় টেস্ট ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সাফল্য অনেক বেশি চোখে পড়ার মতো। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রত্যাশা পূরণে হিমশিম খেলেও টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন দর্শকদের আস্থার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ এখন জাতীয় দলের কাছ থেকে টেস্ট ক্রিকেটে বেশি সাফল্য প্রত্যাশা করে।
টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন এই ইতিবাচক পরিবর্তনটি গভীরভাবে উপভোগ করছেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কথায় সেই উচ্ছ্বাস ফুটে ওঠে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই আনন্দের বিষয় যে সবাই এখন টেস্ট ক্রিকেটের জন্য অপেক্ষা করে, টেস্ট ক্রিকেট দেখে, টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কথা বলে। এটা অনেক বড় অনুপ্রেরণা আমাদের জন্য।’
তবে দর্শকদের এই ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা দলের ওপর দায়িত্বের চাপও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা নাজমুল অবগত। অতীতের সাফল্যের স্মৃতি ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব, এখন যে অবস্থানে আছি এখান থেকে আরও ২০-৩০ শতাংশ উন্নতি করতে। সেটি করতে পারলে আমাদের দেশের জন্য ভালো, বাংলাদেশ দল যে অবস্থানে আছে, সেখান থেকে আরেকটু ভালো অবস্থানে যাবে।’
ডারউইনের জয়ের পর বাংলাদেশ দলের প্রকৃত সামর্থ্য সম্পর্কে মানুষ নতুন করে জানতে পেরেছে। অধিনায়ক মনে করেন, এই জয়ের ফলে দলের ভেতরে এক ধরনের ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, টেস্টে ভালো করার এই প্রবণতা আরও আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। নাজমুলের ভাষায়, ‘ডারউইন টেস্ট জয়ের পরে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়বে, এটা খুব স্বাভাবিক। তবে তার আগে থেকেই খেলোয়াড়দের মধ্যে এই সংস্করণে ভালো করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ডারউইন টেস্ট জয়ের পর সেটা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি টেস্ট ম্যাচ কখন আসবে, কখন আমরা টেস্ট খেলব এই ব্যাপারটাও খেলোয়াড়দের মধ্যে অনেক বেড়েছে।’
বর্তমানে দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে শুধু টেস্ট খেলার আগ্রহই নয়, বরং জেতার এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা কাজ করছে। সবাই চায় এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। এই বিষয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘এটা ধরে রাখতে হবে, অনেক ভালো করার সুযোগ আছে। আমরা ভালো করছি, তবে আমরা খেলোয়াড়েরা এখনো সন্তুষ্ট নই। আমাদের মনে হয় এখান থেকে আরও উন্নতির সুযোগ আছে। কাজেই খেলোয়াড়দের পা মাটিতেই আছে। আরও কীভাবে ভালো করা যায়, তা নিয়েই আমরা ড্রেসিংরুমে কথা বলি। এটা একটা ইতিবাচক দিক।’