চোট কাটিয়ে পুনরায় মাঠে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাংলাদেশের গতিময় পেসার নাহিদ রানারকে। অস্ট্রেলিয়ায় উন্নত চিকিৎসা নিতে গিয়ে নতুন করে দুঃসংবাদ পেয়েছেন এই বোলার। সেখানে করা পরীক্ষায় তার ল্যাব্রাম ছেঁড়ার চোট ধরা পড়েছে। এই গুরুতর আঘাতের কারণে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অংশ নিতে পারবেন না তিনি। একইসঙ্গে আগামী মাসের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তার অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে এই দুঃসংবাদ নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসাধীন নাহিদকে ইতিমধ্যে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে এবং তার পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে তিনি পুনরায় বোলিং শুরু করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিসিবির ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, পরীক্ষায় ল্যাব্রাম ছেঁড়ার চোট ধরা পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় তাকে ইতিমধ্যে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু করেছে সে। আগামী শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে তার বোলিং শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এর আগে ধারণা করা হচ্ছিল যে, নাহিদের পিঠ ও শ্রোণি অঞ্চলে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তবে চোটজনিত অস্বস্তি কাটছিল না বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠায় বিসিবি। সেখানেই ল্যাব্রামের চোটটি শনাক্ত করা হয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে নাহিদের জায়গা হয়নি। আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে এবং ৫ নভেম্বর সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। নতুন এই চোটের কারণে এই সিরিজে তার মাঠে নামার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।

তবে নাহিদ রানারকে নিয়ে বিসিবির দুশ্চিন্তার শেষ নেই। আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তার খেলা নিয়েও গভীর সংশয় রয়েছে। ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপকালে বিসিবির ওই কর্মকর্তা জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে নাহিদ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি খুব একটা আশাবাদী নন। দ্বিতীয় টেস্টে তার খেলার সম্ভাবনা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর।

ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগেও যদি সে সুস্থ হতে না পারে, তাহলে সাদা বলের সিরিজ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারে।’

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরের সময় গ্রেড-টু সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে অবস্থান করছেন নাহিদ। সেই চোটের প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ, এশিয়ান গেমস এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তিনি খেলতে পারেননি। পুনর্বাসন চলাকালীন নিতম্বের পেশিতে নতুন করে চোট পাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ থেকেও ছিটকে যান তিনি।

আগামী ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে শুরু হবে বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম টেস্ট এবং ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় টেস্ট। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সফরে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলবে বাংলাদেশ। নাহিদ রানার ঠিক কবে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন, তা এখন তার পুনর্বাসনের গতির ওপরই নির্ভর করছে।