ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের জন্য এখন কেবল কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। ২০২৬ সালের সেরা ফুটবলার হিসেবে কে স্বীকৃতি পাবেন, তা আজই জানা যাবে। এবারের লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল, হ্যারি কেইন এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে আটবারের বিশ্বসেরা লিওনেল মেসিও রয়েছেন মনোনীতদের তালিকায়। এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক হলো, ইতিহাসের প্রথমবারের মতো লন্ডনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও ঘরে বসে বিনামূল্যে সরাসরি এই আয়োজনটি উপভোগ করতে পারবেন।
আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসর। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় শুরু হবে মূল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, যা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী হবে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ২টা। পুরো অনুষ্ঠানটি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলবে, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা পর্যন্ত তা সম্প্রচারিত হবে।
মূল অনুষ্ঠানের আগেই শুরু হবে তারকাদের আগমন এবং লালগালিচা বা রেড কার্পেট পর্ব। লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় এই আয়োজন শুরু হবে, যা বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত ১২টা। প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে চলবে এই জমকালো লালগালিচা পর্ব, যেখানে মনোনীত ফুটবলারদের পাশাপাশি ফুটবল বিশ্বের সাবেক ও বর্তমান অনেক তারকা উপস্থিত থাকবেন।
পুরস্কার বিতরণীর আগেই পর্যায়ক্রমে মনোনীত ফুটবলারদের অবস্থান প্রকাশ করা হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১০টা থেকে পুরুষ ও নারীদের ব্যালন ডি’অরের ৩০তম থেকে ১১তম স্থানে থাকা ফুটবলারদের নাম প্রকাশ করা হবে।
বাংলাদেশ থেকে এই অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখার সুযোগ রয়েছে অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএনে (DAZN)। আয়োজকদের সঙ্গে সম্পাদিত সম্প্রচার চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০০টি অঞ্চলে বিনামূল্যে এই অনুষ্ঠানটি দেখাবে প্রতিষ্ঠানটি। উয়েফার অফিশিয়াল সম্প্রচার তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের দর্শকরাও এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
অনুষ্ঠানটি দেখতে দর্শকদের ডিএজেডএনের ওয়েবসাইটে (www.dazn.com) প্রবেশ করতে হবে অথবা স্মার্টফোনে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। সেখানে ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অথবা আগে থেকে থাকা অ্যাকাউন্টে লগইন করে সরাসরি সম্প্রচার দেখা যাবে। ব্যালন ডি’অরের এই আয়োজন দেখার জন্য আলাদা কোনো পেইড সাবস্ক্রিপশন বা অর্থের প্রয়োজন হবে না।
উয়েফার প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার তালিকায় বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো টেলিভিশন চ্যানেলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে দেশের দর্শকদের জন্য ডিএজেডএনই প্রধান অফিশিয়াল স্ট্রিমিং মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া ব্যালন ডি’অরের নিজস্ব ওয়েবসাইট (ballondor.com) থেকে পুরস্কারজয়ীদের নাম, র্যাঙ্কিং এবং অনুষ্ঠানসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য সরাসরি অনুসরণ করা যাবে।
এবারের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন ফ্রান্স ও আর্সেনালের সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরি এবং ক্রীড়া উপস্থাপক কেট স্কট। পুরুষ ও নারী ফুটবলের সেরা খেলোয়াড়ের পাশাপাশি সেরা তরুণ ফুটবলার, গোলরক্ষক, কোচ, স্ট্রাইকার ও ক্লাবকেও পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য দেওয়া হবে সক্রেটিস পুরস্কার।
ব্যালন ডি’অরের এবারের আয়োজন লন্ডনে করার পেছনে একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। ১৯৫৬ সালে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথুস। সেই ঐতিহাসিক অর্জনের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁর প্রতি সম্মান জানাতেই এবার লন্ডনকে বেছে নিয়েছেন আয়োজকেরা।
গত বছর পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন পিএসজির ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। অন্যদিকে নারীদের বিভাগে টানা তৃতীয়বারের মতো পুরস্কার জিতেছিলেন স্পেন ও বার্সেলোনার আইতানা বনমাতি।
এবারের পুরুষ বিভাগে প্রধান দাবিদার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ইয়ামাল, কেইন ও এমবাপ্পে। অন্যদিকে নারীদের বিভাগে আলোচনায় রয়েছেন অ্যালেক্সিয়া পুতেলিয়াস, এভা পায়োরসহ বেশ কয়েকজন তারকা।
শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত পুরস্কার, সেই উত্তর মিলবে মঙ্গলবার ভোরে।