আলমারিতে যত্ন করে রাখা ২০২৪ সালের স্যুটগুলোতে হয়তো এখন ধুলোর আস্তরণ জমেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সেই পুরনো পোশাকগুলোই কি আবারও বের করা হবে, নাকি লন্ডনের বিখ্যাত থিয়েটার প্যালাডিয়ামের জমকালো মঞ্চে নতুন স্যুটে দেখা যাবে ভিনিসিয়ুস ও এমবাপ্পেদের? দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিই এখন অনেক বেশি প্রবল। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান ঘিরে যে অভিমান জমেছিল, তা অবশেষে ভুলে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপ সম্প্রতি জানিয়েছে, আজ রাতে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ব্যালন ডি’অর গালা অনুষ্ঠানে রিয়ালের একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকবে। উল্লেখ্য, শেষ মুহূর্তের এক সিদ্ধান্তে ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছিল এই স্প্যানিশ ক্লাবটি। ২০২৫ সালে ক্লাবটির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন নারী দলের ফুটবলার ক্যারোলাইন উইয়ার।

তবে এবার কেবল ক্লাব প্রতিনিধিই নন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রিয়ালের তারকা ফুটবলাররাও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং জুড বেলিংহাম এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এমবাপ্পের উপস্থিতির বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করেছে আরএমসি স্পোর্ট। এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে রিয়ালের এই ফরাসি তারকা অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনীত ৩০ জনের তালিকায় রিয়ালের চারজন খেলোয়াড় জায়গা করে নিয়েছেন—এমবাপ্পে, বেলিংহাম, ভিনিসিয়ুস এবং কুকুরেয়া। এছাড়া বর্ষসেরা গোলকিপার ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছেন থিবো কোর্তোয়া এবং বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড় ক্যাটাগরিতে আছেন ইয়ান দিওমান্দে। অন্যদিকে, মেয়েদের বর্ষসেরা উদীয়মান ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন ফরোয়ার্ড ফেলিসিয়া শ্রোডার।

স্মরণ করা প্রয়োজন, সেবার ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের প্রায় এক মাস আগে রিয়াল মোটামুটি নিশ্চিত ছিল যে ট্রফিটি তাদের খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুসের হাতেই উঠবে। চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পাশাপাশি মৌসুমের শেষ ভাগে ব্রাজিলিয়ান এই তারকার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। এমনকি বাজিকরদের হিসেবেও তিনি ছিলেন ফেবারিট। কিন্তু প্যারিসের থিয়েটার দু শাতলেতে পুরস্কার বিতরণের ঠিক আগে রিয়াল জানতে পারে যে, ভিনিসিয়ুস বিজয়ী হননি। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যালন ডি’অর গালা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাবটি।

ব্যালন ডি’অর বিজয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়াটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে রিয়ালের পক্ষ থেকে বলা হয়, “পুরস্কার দেওয়ার যে মানদণ্ড, তার ওপর ভিত্তি করে বিজয়ী হিসেবে যদি ভিনিসিয়ুসকে বেছে না নেওয়া হয়, তাহলে একই মানদণ্ড বিচারে কারবাহালকে বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। যেহেতু এমন কিছু হয়নি, তাই এটা পরিষ্কার যে ব্যালন ডি’অর-উয়েফা রিয়াল মাদ্রিদকে সম্মান করে না। আর যেখানে সম্মান নেই, রিয়াল মাদ্রিদ সেখানে যায় না।”

সেবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন রদ্রি, যিনি স্পেনের হয়ে ইউরো জয় করেছিলেন এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ও উয়েফা সুপার কাপ জিতেছিলেন। এই ঘটনাটি তখন ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

রিয়ালের সেই বয়কটের কারণে তৎকালীন কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং এমবাপ্পে তাদের ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলো সরাসরি গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তী বছরও ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান বয়কট করে রিয়াল। সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল যে, উয়েফা এবং ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর সঙ্গে বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাবটি। তবে বিবিসির দাবি ছিল, পুরস্কার বিতরণের সময়সূচি বা শিডিউল নিয়ে রিয়ালের সমস্যা ছিল। সেবার মনোনয়ন পেয়েছিলেন বেলিংহাম, এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস।

রিয়ালের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এমবাপ্পের পুরস্কার জয়ের ব্যাপারে ক্লাবটি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী, আর সেই কারণেই এবার প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোল ডট কম জানিয়েছে, ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রিয়ালের দূরত্ব এখন ঘুচেছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের অনুষ্ঠানে রিয়ালের পুরুষ ও নারী দল থেকে প্রতিনিধি থাকবেন। পাশাপাশি ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা ও নির্বাহী পর্যায়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও সেখানে উপস্থিত থাকবে। তবে রিয়ালের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি মানেই এই নয় যে ট্রফিটি এমবাপ্পের জয় নিশ্চিত। কারণ হ্যারি কেইন এবং লামিনে ইয়ামালের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীরাও এই লড়াইয়ে রয়েছেন।