চলতি মৌসুমে মাত্র নয়টি ম্যাচে একটি গোলের সীমাবদ্ধতা। রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগে একসময় যিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রধান কারিগর ছিলেন, সেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখন নিজের হারিয়ে যাওয়া ছন্দ খুঁজে ফেরার লড়াই করছেন। মাঠের গোলখরা, সমর্থকদের তীব্র সমালোচনা এবং লাল কার্ডের বিতর্ক—সব মিলিয়ে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। প্রিয় শিষ্যের এমন করুণ দশা দেখে নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো।

আগামী বুধবার (১৪ অক্টোবর) চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের দিন ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিনিসিয়ুসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন মরিনহো।

পর্তুগিজ এই কোচ বলেন, ‘ভিনিসিয়ুসের এই অবস্থা দেখে আমার হৃদয় ভেঙে যায়। সে প্রতিদিনই হাসিখুশি থাকে, কঠোর পরিশ্রম করে। কিন্তু এ বছর এখনো ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার আনন্দ খুঁজে পায়নি।’

শিষ্যের পরিশ্রমের বিষয়ে মরিনহোর কোনো অভিযোগ নেই। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, ভিনিসিয়ুস যদি তাঁর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তবে খুব শীঘ্রই পুরোনো ছন্দে ফিরবেন। আর সেই প্রত্যাবর্তনের সেরা মঞ্চ হতে পারে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

মরিনহো বলেন, ‘দেখা যাক, লিগে নিষিদ্ধ থাকায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সে নিজের আসল রূপে ফিরতে পারে কি না।’

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মৌসুমে রিয়ালের হয়ে নয় ম্যাচে মাত্র একটি গোল করেছেন ২৬ বছর বয়সী ভিনিসিয়ুস। সর্বশেষ ছয়টি ম্যাচে সরাসরি গোলে তাঁর অবদান মাত্র একবার। গত ২৬ আগস্ট রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ৪–১ গোলের জয়ের ম্যাচে তিনি করেছিলেন মৌসুমের একমাত্র গোলটি।

তবে গত শনিবার ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে তিনি গোল করতে সক্ষম হলেও ভিডিও প্রযুক্তির (VAR) সহায়তায় দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে তিনি প্রতিপক্ষের নাথান সালিবার চুল টেনে ধরেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করার পাশাপাশি রেফারি ভিনিসিয়ুসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

রেফারির এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভিনিসিয়ুস। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সতীর্থদের হস্তক্ষেপ করে তাঁকে শান্ত করতে হয়। যদিও পরবর্তীতে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এই তারকা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-০ গোলে জয় করে রিয়াল মাদ্রিদ।

এই লাল কার্ডের শাস্তিস্বরূপ লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না ভিনিসিয়ুস। যদি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ দুই বা তিন ম্যাচ হয়, তবে আগামী ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো ম্যাচটিও মিস করতে হতে পারে তাঁকে। তবে তাঁর নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত মেয়াদ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

গত কয়েক মৌসুমে রিয়ালের সাফল্যে ভিনিসিয়ুসের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ২০২৩-২৪ মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় মোট ২৪টি গোল করেছিলেন তিনি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন। অথচ চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই গোলের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাঁকে।

অন্যদিকে, রিয়ালের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। চলতি মৌসুমে আট ম্যাচে আটটি গোলের পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন এই ফরাসি তারকা। দুই ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্সের এই আকাশ-পাতাল ব্যবধান ফুটবল মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ক্লাবের পূর্ণ আস্থা ধরে রেখেছেন ভিনিসিয়ুস। গত আগস্টে ২০৩২ সালের জুন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এবার কোচ মরিনহোও প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন।

রোমার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই ম্যাচটি তাই ভিনিসিয়ুসের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনন্য সুযোগ। ইতালির স্তাদিও অলিম্পিকোয় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১টায়।